বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

ফেলনা কাপড়ে ভাগ্য বদল

ফেলনা কাপড়ে ভাগ্য বদল
গার্মেন্টেসের ফেলনা কাপড় ও সুতা বদলে দিয়েছে ফাতেমার ভাগ্য।। ছবি: ইত্তেফাক

গার্মেন্টেসের ফেলনা কাপড় ও সুতা বদলে দিয়েছে ফাতেমার ভাগ্য। এ কাপড় ও সুতা ব্যবহার করে হস্তচালিত তাঁতের মাধ্যমে পাপোশ ও জায়নামাজ তৈরি করে দিন বদল করেছেন ফাতেমা খাতুন। এসব বানিয়ে ফাতেমা নিজে সচ্ছল হওয়ার পাশাপাশি হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছেন। পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় তার এই কারখানাটির পরিসর দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে তার কারখানায় সাত জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকানির্বাহ করছেন। ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করা ফাতেমা আজ স্বাবলম্বী। বর্তমানে ফাতেমার কারখানায় তৈরি পাপোশ ও জায়নামাজ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা জানান, ‘এটা আমার শ্বশুরকুলের পুরান পেশা। তবে শ্বশুরের মৃত্যুর পর আমিই এই পেশার হাল ধরি।’ ফাতেমার বিয়ে হয়েছে ২০ বছর। শ্বশুরবাড়ি আসার পর মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে এক সময় নানা অভাব-অনটনের মাঝে দিনযাপন করতেন তিনি। স্বামী-সন্তানের মুখে দুই বেলা দুই মুঠো আহার তুলে দিতে পারতেন না। খেয়ে না খেয়ে পার করেছেন দিনের পর দিন। গ্রামীণ এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রথমে দুটি মেশিন কিনে শুরু করেন গার্মেন্টসের ফেলনা কাপড় দিয়ে পাপোশ তৈরির কাজ। পরিশ্রম আর মেধার সমন্বয় করে ফাতেমা সাতটি মেশিন বসিয়েছেন। করেছেন প্রায় ১০ জন মানুষের কর্মসংস্থান।

নিজস্ব উদ্যোগ ও স্বামীর সহযোগিতায় ফাতেমার আর্থিক এবং সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে ফাতেমার কারখানায় উত্পাদিত পণ্য স্থানীয় জেলা এবং বিভাগীয় বাজারের শপিংমল, সুপার মার্কেটে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফাতেমার স্বামী আবুল বাজারজাতকরণের কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। নিকট ভবিষ্যতে উত্পাদিত পণ্য বিদেশে সরাসরি রপ্তানি করার আশা পোষণ করছেন তিনি। ফাতেমা জানান, এরই মধ্যে তার উত্পাদিত পাপোশ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে।

ফাতেমা স্বপ্ন দেখেন ভবিষ্যতে তার কারখানাটিকে সম্পূর্ণ রপ্তানিভিত্তিক একটি শিল্প কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা, যার অবস্থান হবে বর্তমান কারখানাকে কেন্দ্র করে। সেখানে কাজ করবে হতদরিদ্র, বিধবা ও প্রতিবন্ধী মহিলারা।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত