বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

কাঠালবাড়ি ঘাটে ফেরির যাত্রীকে ফুসলিয়ে চরে নিয়ে গণধর্ষণ

কাঠালবাড়ি ঘাটে ফেরির যাত্রীকে ফুসলিয়ে চরে নিয়ে গণধর্ষণ
[ছবি: ইত্তেফাক]

শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে এক নারী যাত্রীকে দ্রুত শিমুলীয়া ঘাটে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফেরি থেকে ফুসলিয়ে স্পিডবোটে করে পদ্মা নদীর চরে নিয়ে তিন বখাটে দলবেঁধে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে স্পিডবোটের চালক ও ধর্ষক তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও ভিকটিম জানায়, যশোর জেলার বাসিন্দা ওই মেয়ের সাথে গত এক সপ্তাহ আগে চাঁদপুরের এক ছেলের সাথে বিয়ে হয়। মেয়েটির স্বামী ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা সেতুর প্রজেক্ট এ শ্রমিকের চাকুরী করে বলে দাবী করে। গত তিন দিন আগে মেয়েটি তার আত্মীয় বাড়ি জেলার শিবচরের কাঠালবাড়ি এলাকার দানেস তালুকদারের বাড়ি বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মেয়েটি তার স্বামীর কাছে কেরানীগঞ্জ যাওয়ার জন্য কাঠালবাড়ি ফেরি ঘাটে দাড়িয়ে ছিল। অপর দিকে মেয়েটিকে এগিয়ে নিতে তার স্বামীও প্রজেক্টের কাজ শেষ করে শিমুলীয়া ঘাটে তার জন্য অপেক্ষা করছিল। মেয়েটি কাঁঠালবাড়ি ঘাটে একটি ফেরিতে উঠার পর একটি স্পিডবোটে নিয়ে চালকসহ ৪ যুবক মেয়েটিকে দ্রুত শিমুলিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে স্পিডবোটে উঠায়।

স্পিডবোটটি কিছু সময় যাওয়ার পর কাঠালবাড়ির বুড়ার খেয়া ঘাটে পৌঁছালে থেমে যায়। এসময় চালক তেল আনার কথা বলে চলে যায়। এসময় তিন যুবক মাসুদ মোল্লা, মাহবুব মৃধা, নুর মোহাম্মদ হাওলাদার মেয়েটিকে চরে নামিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে স্পিডবোট চালক তেল নিয়ে আসলে ওই ৩ যুবক পালিয়ে যায়। মেয়েটি ঘটনার বিস্তারিত জানালে চালক তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। গভীর রাতে মেয়েটির স্বামী বিষয়টি জানতে পেরে শিমুলিয়া থেকে পার হয়ে কাঠালবাড়ি আসে।

বুধবার বিকেল পর্যন্ত ধর্ষিতার আত্মীয় স্বজন এলাকাবাসী ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে কাঠালবাড়ি এলাকায় আপোষ রফার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। দুপুরে খবর পেয়ে শিবচর থানার উপ-পরিদর্শক বিষ্ণপদ হীরা সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। চালক ফারুক মিয়ার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে ধর্ষণকারী তিন যুবক মাসুদ মোল্লা (২৫) মাহবুল মৃধা (৩০) নুর মোহাম্মদ হাওলাদারকে (২৪) গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত মাসুদ কাঠালবাড়ী এলাকার ফকির কান্দি গ্রামের তনু মোল্লার ছেলে। মাহাবুল মৃধা একই এলাকার রশিদ মৃধার ছেলে এবং আটক নুর মোহাম্মদ হাওলাদার একই এলাকার সামাদ হাওলাদারের ছেলে।

শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ফারুক, মাসুদ মোল্লা, মাহবুল মৃর্ধা ও নুর মোহাম্মদ হাওলাদার নামের ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষিতা আসামিদের সনাক্ত করেছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সত্যতা স্বীকার করেছে। এই ব্যাপারে শিবচর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত