বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দী এলাকাবাসী

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানিবন্দী এলাকাবাসী
লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, পানিবন্দী এলাকাবাসী

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি শনিবার (১১জুলাই) বিকাল ৩টায় বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার ৪ উপজেলার ১৭ হাজার ৫০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, শনিবার সকালে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা কমে দুপুর ১২টায় ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু ১২টার পর থেকে আবারো পানি বাড়তে শুরু করে। পরে বিকাল ৩টায় বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত রেকর্ড করা হয়।

জানা গেছে, গত শুক্রবার সকাল থেকে বাড়তে থাকে তিস্তার পানি। দুপুর ১২টার দিকে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, বিকাল ৩টার দিকে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং রাত ১২টায় পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ও ব্যারাজ রক্ষার্থে তিস্তা নদীর মূল স্রোতের ধারার সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অব্যাহত রয়েছে তিস্তার পানি বৃদ্ধি।

দ্বিতীয় দফা বন্যায় জেলার আদিতমারী, কালিগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে ১৭ হাজার ৫০টি পরিবারের ৭৬ হাজার ৭শত ২৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরো পড়ুন: সেতু ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও চলছে ২৫-৩০ টন ওজনবাহী ট্রাক ও লরি

তিস্তা নদীর বাম তীরে পানিবন্দী পরিবারগুলো পড়েছে ভোগান্তিতে। তিস্তার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তা-ঘাট ডুবে গিয়ে চরাঞ্চলের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। চৌকি/খাটের ওপর মাচাং বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পানিবন্দী পরিবারের মানুষগুলো। কেউ কেউ ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু বাঁধ বা পার্শ্ববর্তী গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। খুব কষ্টে পড়েছেন বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও শিশুরা। গবাদি পশু-পাখি নিয়েও চরম বিপাকে পানিবন্দী পরিবারগুলো। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বন্যা দুর্গত এলাকায়।

এছাড়া তিস্তার বামতীরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব বাঁধ ভেঙে গেলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যেতে বলেও শঙ্কিত তিস্তাপাড়ের মানুষ। শুক্রবার রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী হাসপাতাল সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। স্থানীয়রা নিজেরাই বালুর বস্তা দিয়ে পানি প্রবাহ থেকে সড়কটি রক্ষার চেষ্টা করছেন। এটি ভেঙে গিয়ে বিগত ১৭ সালের বন্যায় লালমনিরহাট বুড়িমারী রেললাইন ভেঙে হাতীবান্ধা শহরে পানি প্রবেশ করে। সেই সংস্কার করা সড়কটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তর জানায়, ১৭ হাজার ৫০টি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। নদী ভাঙ্গনে ১৭৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ৭৬ হাজার ৭২৫ জন। জেলা প্রশাসনের দপ্তরের চাল, জিআর ক্যাম, শিশু খাদ্য ও গো খাদ্য ক্রয়ে অর্থ এবং ২ হাজার কার্টন শুকনো খাবার সমূহ মজুদ রয়েছে। বন্যার্তদের জন্য আগামীকাল বরাদ্দ প্রদান করা হবে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত