বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

মধুখালীতে সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের ৯ দিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি

মধুখালীতে সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের ৯ দিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি
মধুখালীতে সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের ৯ দিনেও কেউ গ্রেফতার হয়নি

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোড়কদি ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের সিদ্দিক মোল্লাকে (৬৩) প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়িতে হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ৯ দিনেও থানা পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ও এলাকাবাসীর মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত সিদ্দিক মোল্লার বাড়ির পার্শ্ববর্তী খোদাবাসপুর মৌজায় ৫৮ শতাংশ জমি রয়েছে। ওয়ারিশসূত্রে সিদ্দিক মোল্লা ওই জমির মালিক এবং তার নামেই হাল বিএস, আরএস রেকর্ডপত্রও হয়েছে। কিন্তু সিদ্দিক মোল্লার বাড়ির (কাটাখালী) সীমান্তবর্তী বাগাট পশ্চিমপাড়া গ্রামের শাহাদৎ হোসেন খান লাল ও তার ভাইয়েরা ‘ওই জমি তাদের পূর্ব পুরুষের কাছ থেকে ফাঁকি দিয়ে লিখে নেওয়া হয়েছে’ দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। কিছুদিন আগে ওই জমি দাবি করে লাল খান মধুখালীর সহকারী জজ আদালতে মামলাও করে। কিন্তু এক মাস আগে মামলার রায় তাদের বিপক্ষে যায়। তখন তারা আপীল করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি যেকোনভাবে জমিটি দখলের নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। আর তাদের এ কাজে সার্বিক সহায়তা করে শাহাদৎ হোসেন খান লালের আপন বেয়াই ও সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী শেখ এবং মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি প্রভাবশালী মহল। তারা দুই দফা জমিটি দখল নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর সিদ্দিক মোল্লা ও তার পরিবারকে শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে শাহাদৎ হোসেন খান লালের নেতৃত্বে তার ২ ভাই শামসুদ্দিন খান ও বাকাউল খানসহ ৭০-৮০ জন মিলে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে জোটবদ্ধভাবে সিদ্দিক মোল্লার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা সিদ্দিক মোল্লা, তার ২ ছেলে কামরুল মোল্লা ও হানিফ মোল্লা এবং সিদ্দিক মোল্লার ভাইয়ের ছেলে মনিরুল মোল্লাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও মারধর করে গুরুতর জখম করে চলে যায়। আহত অবস্থায় তাদেরকে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিদ্দিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বাকী ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহত সিদ্দিক মোল্লার ছেলে কামরুল মোল্লা বাদী হয়ে ৪ জুলাই শাহাদৎ হোসেন খান ওরফে লালসহ ৬০ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানার এসআই সাজ্জাদ হোসেন মামলাটি তদন্ত করছেন। কিন্তু ঘটনার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

আরও পড়ুন: সিলেট-সুনামগঞ্জে আবারও পাহাড়ি ঢল, ২ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

নিহত সিদ্দিক মোল্লার স্ত্রী শাহানা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চোখের সামনে আমার স্বামীকে শাহাদৎ হোসেন খান ওরুফে লাল কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। এসময় আহম্মদ মেম্বারের কাছে স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা চাইলেও তারা শুনেনি। কয়েকজন পালিয়ে থাকলেও অধিকাংশ আসামি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ তাদেরকে ধরছে না। এখন তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

শাহানা বেগমের মতোই নিহত সিদ্দিক মোল্লা মেয়ে আসমা খাতুন, ভাতিজা হারুন মোল্লাসহ স্থানীয়রা সিদ্দিক হত্যাকাণ্ডের পর মধুখালী থানা পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে অবিলম্বে মামলার আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুখালী থানার এসআই সাজ্জাদ হোসেন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে আসামি গ্রেফতার হবে। কোন রাজনৈতিক চাপ নেই।’

প্রসঙ্গত, গত ২জুলাই বৃহস্পতিবার কৃষক সিদ্দিক মোল্যাকে প্রতিপক্ষের লোকজন তার নিজ বাড়িতে অতর্কিত হামলা করে কুপিয়ে হত্যা করে। এ বিষয়ে গত শুক্রবার দৈনিক ইত্তেফাকের ৭এর পাতায় ‘মধুখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত’ শিরোনামে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত এবং শনিবার ৪এর পাতায় আসামীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ সমাবেশের ছবি প্রকাশিত হয়।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত