বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই    

কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই    
“রেডজোন” বাস্তবায়ন সত্ত্বেও থামছে না সংক্রমণ। ছবি-ইত্তেফাক

কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই। সরকার ঘোষিত টানা ১৫ দিন “রেডজোন” বাস্তবায়ন সত্ত্বেও থামছে না সংক্রমণ। জেলার ছয় উপজেলা মিলে বর্তমানে করোনা শনাক্ত রোগী সংখ্যা ৯৩০জন। এরমধ্যে ১৯জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মক্ষেত্র কুষ্টিয়ার বিসিক নগরীর কারখানাগুলো করোনা সংক্রমণের হটস্পট বলে শোনা যাচ্ছে মানুষের মুখে মুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া পৌরসভা ও ভেড়ামারা পৌর এলাকাসহ সেখানকার দুটি ইউনিয়ন সরকার ঘোষিত “রেডজোনের” আওতায় আসে। টানা ১৫ দিন লকডাউন শেষে গত ৭ জুলাই ওই রেডজোনের লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু লকডাউন সত্ত্বেও জেলায় ঠেকানো যায়নি করোনা সংক্রমণ। শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখা ক্রমাগত বাড়ছেই। করোনা কন্ট্রোল রুমের তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে শনাক্ত রোগী সংখ্যা ৯৩০ এবং করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। মৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ১৩জন, কুমারখালীতে ৪জন, ভেড়ামারায় ১ জন ও দৌলতপুরে ১ জন। কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এখন সংক্রমিত রোগী ধারনের ঠাঁই নেই। জেলাবাসীর মধ্যে জনসচেতনা সৃষ্টির অভাবসহ বিসিক শিল্পনগরীতে চালু শিল্প-কারখানায় কর্মরত প্রায় ১৩/১৪ শ্রমিক-কর্মচারী সামাজিক দুরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারী নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ না করায় সংক্রমন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিসিক শিল্পনগরীর ৮/১০টি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘন্টা চালু রাখা হলেও কারখানা চত্বরে গঠন করা হয়নি আইসোলেশন সেন্টার কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মেডিকেল টিম। ফলে কল-কারখানাগুলোতে সরকারী নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষিত হওয়ায় সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত বিআরবি ইন্ডাষ্ট্রিজে কর্মরত করোনা আক্রান্ত হিসাব বিভাগের সহ-ব্যবস্থাপক আলী আহমদ লিটন (৪২) গত ২৯ জুন শ্বাসকষ্টে মারা যান। এছাড়া ২ জুলাই স্টোর অফিসার মোঃ ফজলুল হক (৪৫) ও আইটি অফিসার মোঃ আমজাদ হোসেন জুয়েল (৩৮) ৫ জুলাই কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে জ্বর ও প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে মারা যান।

বিআরবির ওই তিন কর্মকর্তাসহ জেলায় এ পর্যন্ত মোট কোভিড-১৯ আক্রান্ত ১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে কুষ্টিয়ার আরটি-পিসিআর ল্যাবরটোরির হিসাবমতে, বিআরবি’র ডেপুটি ম্যানেজার মহিউদ্দিন ও তুহিনুল আলম, কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার আব্দুল জলিল,আইটি বিভাগের এজিএম মাহাফুজ আলী জনি, ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন, পার্সেস অফিসার কাওসার, হিসাব রক্ষন অফিসার রাসেল, হিসাব রক্ষন অফিসার সালাউদ্দিন, সিনিয়র এপিআরও কামরুজ্জামান, হেলপার শারমিন খাতুন, রেজাউল, হিসাব রক্ষক মজিদ, হিসাব রক্ষক গৌতম, শ্রমিক আশরাফুল, কার্পেন্টার মাসুদ রানা করোনা শনাক্ত হন। নামপ্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরীর কল-কারখানায় কর্মরত শতকরা ২০/৩০ ভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর রয়েছে করোনা উপসর্গ। চাকরী ঠেকাতে এসব শ্রমিক-কর্মচারীরা করোনা উপসর্গ নিয়েই কারখানায় কর্মরত থাকায় তাদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা অসন্তোষ। সামাজিক দুরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষিত হওয়ায় সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তরা জানান। ফলে করোনা সংক্রমণরোধ ও জেলাবাসীর জীবন রক্ষায় বিসিক নগরীর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক “লকডাউনের” দাবী উঠেছে। এছাড়া উদ্বেগজনকহারে সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ায় জেলাবাসীর মধ্যেও বিরাজ করছে করোনা ভীতি। এদিকে অরক্ষিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কর্মচারী মৃত্যু ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পলান বিশ্বাস বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে শ্রমিক-কর্মচারীর সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতসহ মৃতদের কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার এএইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জনসচেতনার অভাবসহ সামাজিক দুরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারী নির্দেশনা না মানার কারণে জেলায় করোনা সংক্রমন ঠেকানো যাচ্ছে না। সংক্রমনরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মজিবর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানায় কাজ করছেন। এছাড়া আক্রান্তরা যথানিয়মে ‘হোম আইসোলেশনে’ রয়েছেন বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত