বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

কুড়িগ্রামে ধরলা-ব্রহ্মপুত্র-তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

কুড়িগ্রামে ধরলা-ব্রহ্মপুত্র-তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপরে, অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী
বন্যায় তুলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক। ছবি : দৈনিক ইত্তেফাক

অবিরাম বর্ষণ ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয়দফায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদরের কালুয়ার চরের জয়কুমার ও হলোখানার সারডোব এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ১৯টি পয়েন্টে বাঁধ নদী ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

রবিবার বিকেলে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার, দুধকুমারের নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দ্রুতগতিতে পানি বেড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলায় ৫৭ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রে ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তিস্তায় পানি স্থিতিশীল রয়েছে। পানি বৃদ্ধি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে এবং ৭-১০ দিন মাঝারি আকারের বন্যা থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র।

দ্বিতীয়-দফা বন্যায় বানভাসি মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নতুন করে আবারো জেলার ৪ শতাধিক চর-দ্বীপ-চরের নিম্নাঞ্চলসমুহ প্লাবিত হয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। প্রথমদফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ২য় দফা বন্যায় মারাত্মক দুর্ভোগ দিশেহারা হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষজন। চরের গ্রামীণ সড়কগুলোতে পানি উঠায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নৌকা ও কলাগাছের ভেলাই একমাত্র ভরসা বন্যার্ত চরবাসীদের।

কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান জানান, প্রথমদফা বন্যায় ঘর-বাড়িসহ ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ধরলা নদীর পানি বেড়ে আবারও তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। দুইদিনেই তার ইউনিয়নের ১৪টি গ্রাম দ্বিতীয়দফা বন্যায় ঘর-বাড়িতে পানি ওঠায় আবারও তারা উঁচু স্থানে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে শুরু করেছে। বারবার বন্যার কবলে পড়ায় চরম দুর্ভোগে মানবেতর জীবন যাপন করছে মানুষজন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করে ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত