বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

সিলেটে বন্যা : ১৭ উপজেলায় দুর্দশার শেষ নেই

সিলেটে বন্যা : ১৭ উপজেলায় দুর্দশার শেষ নেই
বন্যার পানিতে মাছ ধরছেন স্থানীয়রা। ছবি : দৈনিক ইত্তেফাক

সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১৭ উপজেলার আড়াই লক্ষাধিক বানভাসি মানুষের কষ্টের শেষ নাই। ভারতের বরাক নদী দিয়ে প্রবল বেগে পানি নামা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা ছয়টায় সেখানে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুরমা-কুশিয়ারার মিলনস্থল অমলসিদে পানি বিপৎসীমার দশমিক ৩১ সে. মিটার উপরে ছিল। সিলেট নগরীর উপশহর ও নদী তীরবর্তী বহু রাস্তা ও বাড়ীঘরে বন্যার পানি। নৌকা সিলেটের সড়কে চলতে দেখা যায়। থেমে থেমে ঝরছে আকাশের বারিধারা। সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের বাইশটিলায় বিমানবন্দর থেকে বাদাঘাট সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরের কোনো কোনো এলাকার রাস্তা থেকে পানি নামলেও অনেকের বাড়িঘরের আঙিনায় পানি। বন্যা কবলিত সুনামগঞ্জ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম রবিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, আগামী ২-৩ দিন বৃষ্টি থাকবে। নদনদীতে পানির চাপ বাড়তে পারে। ভারতের চোরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। সতর্ক থাকতে হবে । তিনি জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ডাইক ও সড়ক ডুবে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজের ভিতরেও দুপুর পর্যন্ত পানি ছিল।

অন্যদিকে সিলেট বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মজুমদার মো. ইলিয়াস ইত্তেফাককে জানান, দুই দফা বন্যায় সিলেটে আউষ, আমন ও শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জে কৃষিতেই টাকায় ক্ষতির পরিমাণ আড়াই কোটিরও বেশী। প্রায় ১২ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ পর্যন্ত। চলমান বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ফসল ভেসে উঠলে ক্ষতি কম হবে।

একদিকে করোনা অন্যদিকে বন্যার পানিতে চারদিক সয়লাব। বসতঘরে, গরু ঘরে কোমড় পানি। মহা-বিপাকে মানুষ। রাস্তাঘাট ডুবে ১৫ উপজেলায় কর্মহীন জলবন্দী মানুষের দুর্দশার চিত্র ভয়াবহ।

সিলেটে রবিবার কোনো কোনো স্থানে বৃষ্টি কম হলেও রবিবার সন্ধ্যা ছয়টায় নদীর পানি বাড়তে থাকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায় কানাইঘাটে সুরমা বিপৎসীমার ১ দশমিক ২৭ সে.মিটার, সিলেটে দশমিক ৭৪ সে.মিটার, সুনামগঞ্জে দশমিক ৫৩ সে.মিটার, ছাতকে ১ দশমিক ১৪ সে.মিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা দশমিক ৮৬ সে.মিটার, সারী নদী দশমিক ৬৪ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সিলেট সদর গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা বন্যা কবলিত। কোম্পানিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা সদরে নৌকা চলাচল করছে। তবে, বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ঐ সব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল।

ইত্তেফাক/এএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত