বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কে বন্যার পানি, দুর্ভোগে আড়াই লাখ মানুষ 

কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কে বন্যার পানি, দুর্ভোগে আড়াই লাখ মানুষ 
ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। ছবি : ইত্তেফাক

কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কের চন্ডীপুর এলাকার দুটি স্থানের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বালুর বস্তা ফেললেও দ্রুত পানি নেমে না গেলে মহাসড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশংকা স্থানীয়দের।

মঙ্গলবার বিকেলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ধরলায় সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি পরিবারগুলো শুকনো জায়গার অভাবে রান্নার বিড়ম্বনায় পড়েছে। পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট ও স্যানিটেশন সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে। বয়োবৃদ্ধ ও শিশুসহ গবাদি পশু নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন বানভাসিরা। নতুন করে পানি বেড়ে কুড়িগ্রাম জেলার ৬০টি ইউনিয়নের ৫ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব ও নাগেশ্বরীতে মহাসড়কের উপর পানি ওঠায় এই উপজেলার হাছনাবাদ, নেওয়াশি, ভিতরবন্দ, পৌরসভা, ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গামোড়, বড়ভিটা, সদরের ভোগডাঙ্গা, ঘোগাদহ, পাঁচগাছীসহ প্রায় ৪৫টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলী নুরাইন জানান, কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী সড়কের চন্ডিপুর নামক স্থানে মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাস্তার যাতে ক্ষতি না হয় এজন্য স্রোতের তীব্রতা ঠেকাতে বস্তা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, উজানের ঢলে জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে এর অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তবে ধরলা ও তিস্তার পানি কমতে শুরু করবে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ৪৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৪০০ মে. টন চাল, ১১ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত