বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭
৩৪ °সে

১৯ করোনা রোগীর চিকিৎসায় ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা বিল দাখিল

১৯ করোনা রোগীর চিকিৎসায় ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা বিল দাখিল
কুমিল্লা । ফাইল ছবি

কুমিল্লায় এএফসি হেলথ ফরটিস হার্ট ইনস্টিটিউশন হাসপাতালে ১৯ করোনা রোগীর চিকিৎসা বাবদ ১৩ লাখ টাকার বিল দাখিল করা হয়েছে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের পরিচালকের কাছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ওই হাসপাতালের আইসিইউ-সহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা বাবদ খরচের ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা বিল দাখিল করা হয়েছে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়।

জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে কুমেক হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের আগ পর্যন্ত গত ১০ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ১৯ জন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয় ফরটিস হাসপাতালে। এরমধ্যে ৪জন রোগী মারা যান। অপর ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এসব রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বাবদ কুমেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবরে বিল দাখিল করে বেসরকারি ফরটিস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা উপযোগী করে তুলতে আইসিইউ-সহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা খরচ দেখিয়ে স্বাস্থ্য অধিপ্তরে বিল করে হাসপাতালটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হলে বিকালে সাংবাদিকরা ওই হাসপাতালে ভিড় জমান।

হাসপাতালটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কন্সালটেন্ট কার্ডিওলোজি ডা. সাঈদ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ‘উল্লেখিত সময়ে আমরা ১৯জন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি, এদের মধ্যে ৪জন রোগী মারা গেছেন। এদের চিকিৎসা, থাকা, ঔষধপত্র বাবদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকার বিল দাখিল করা হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নে তিনি জানান, ‘আমাদের হাসপাতালের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয় থেকে এ হাসপাতালের একটি বড় কক্ষে ১০ বেডের আইসিইউ, ভেন্টিলেটার স্থাপনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ বাবদ ৫ কোটিরও অধিক টাকা খরচ হয়েছে এবং এ বাবদ বিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দাখিল করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। বিষয়টি আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না। তবে আমাদের হাসপাতালে জিএম অপারেশন তৌফিক হাসান এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’ পরে জিএম অপারেশন তৌফিক হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করেও রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে স্বাস্থ্য সেবা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২২ দিনে ১৯জন করোনা রোগীর চিকিৎসা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা এবং ওই হাসপাতালের আইসিইউসহ অন্যান্য স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা সরকারকে যদি পরিশোধ করতে হয় এক্ষেত্রে প্রতি রোগীর জন্য খরচ দাঁড়ায় ২৯ লাখ টাকার উপরে। এ ধরণের খরচ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তবে কুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, ‘জেলা করোনা প্রতিরোধ বিষয়ক মাল্টি সেক্টর কমিটি করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি ফরটিস হাসপালটিকে অধিগ্রহণ করেছিল। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপনের আগ পর্যন্ত ওই হাসপাতালটি ২২ দিনে ১৯জন রোগীর সেবা দিয়েছে। রোগীদের ঔষধ, পথ্য ও চিকিৎসা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সেবা বাবদ ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৬৩৬ টাকা ও আইসিইউ-সহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা বাবদ ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিল দাখিল করেছে, যা একেবারেই অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই হাসপাতালটির ফার্মেসিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনি রায়ের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট জনি রায় জানান, ওই ফার্মেসিতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ উদ্ধার করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত