বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭
২৯ °সে

কমরেড মণি সিংহের ১১৯তম জন্মদিন পালিত

কমরেড মণি সিংহের ১১৯তম জন্মদিন পালিত
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পালিত হলো কমডের মণি সিংহের ১১৯তম জন্মদিন। ছবি: ইত্তেফাক

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পালিত হলো কমডের মণি সিংহের ১১৯তম জন্মদিন। কমরেড মণি সিংহ একাধারে বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামী, টঙ্ক আন্দোলনের নায়ক, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্টাতা সভাপতি ছিলেন। মঙ্গলবার এ জন্মদিন উদযাপনের আয়োজন করে কমরেড মণি সিংহ মেলা উদযাপন কমিটি।

এদিন কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি যাদুঘর মিলনায়তনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে তার প্রতিকৃতিতে পূষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে সিপিবি উপজেলা সম্পাদক রূপন কুমার সরকারের সঞ্চালনায় মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে মনিসিংহের কর্ম ও ব্যক্তি জীবনের ওপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কমরেড মণি সিংহের ছেলে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. দিবালোক সিংহ।

অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল্লাহ হক, উপজেলা সিপিবির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মো. আলী আজগর, জেলা পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল হান্নান, সিপিবির সাবেক সভাপতি ডা. সোহরাব উদ্দিন, উপজেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদ আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন মুকুল, প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাহাদাত হোসেন কাজল প্রমুখ। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

বাংলাদেশের কৃষক- শ্রমিক-মেহনতি মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াই-সংগ্রামের পুরোধা কমরেড মণি সিংহ। কমরেড মনি সিংহ ছিলেন এদেশের গণমানুষের নেতা। সারাজীবন তিনি লড়াই করে গেছেন এদেশের খেটে খাওয়া-মেহনতী মানুষের জন্য। দেশের স্বাধীনতা অর্জন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

কমরেড মণি সিংহ ১৯০১ সালের ২৮ জুলাই কোলকাতার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র আড়াই বছর বয়সে বাবা কালি কুমার সিংহের মৃত্যু হলে ঢাকায় তার মামা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুরেন সিংহের বাড়িতে চলে আসেন। মণি সিংহের মা সরলা দেবী ছিলেন তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার সুসঙ্গ দুর্গাপুরের জমিদারদের বড় বোন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হবার পরে পূর্ণ গণতন্ত্র ও শোষণ মুক্ত সমাজের আদর্শকে যারা সামনে এনেছেন- মণি সিংহ তাদেরই একজন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত পাটির দ্বিতীয় কংগ্রেসে মণি সিংহ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৮৪ বছর বয়স পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে পার্টির দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। আমৃত্যু তিনি লড়ে গেছেন এদেশের খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষের জন্য। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত