বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

পদ্মা পানি বেড়ে দোহার-নবাবগঞ্জে বন্যার অবনতি

পদ্মা পানি বেড়ে দোহার-নবাবগঞ্জে বন্যার অবনতি
ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন বন্যা কবলিতরা। ছবিটি দোহার (ঢাকা) উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মাঝিরচর থেকে তোলা। ছবি: ইত্তেফাক

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে পড়েছে হাজারও মানুষ। দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ রক্ষা বাঁধের নিন্মাঞ্চলের বিস্তীর্ণ প্রায় ৩৫টি গ্রামসহ আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও গো খাদ্যের তীব্র সঙ্কট। হুমকির মুখে নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঁশিয়াখালীর ঢাকা রক্ষা বেড়ি বাঁধ।

সরেজমিনে, নবাবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা তীরের জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালিদয়া, পানিকাউর, কঠুরি, আশয়পুর, রায়পুর, ঘোষাইল, কেদারপুর, আর ঘোষাইল, রাজাপুর, বালেঙ্গা, কান্তারটেক, খাটবাজার, নয়াডাঙ্গী, চারাখালী ও পশ্চিম সোনাবাজু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারও পরিবার।

এদিকে নবাবগঞ্জের কালিগঙ্গা নদীতে বিলিন হতে চলেছে শোল্লা ও কৈলাইল ইউনিয়নের অসংখ্য বসতবাড়ি ও কৃষিজমি। চলমান বর্ষা মৌসুমে এ দুটি ইউনিয়নের কোন্ডা, খতিয়া, পাতিলঝাপ, মেলেং, মাতাপপুর, পাড়াগ্রামসহ বেশ কিছু গ্রামে দেখা দিয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙন। সাদাপুর খালের ভাঙনেও দিশেহারা শতাধিক পরিবার।

অপরদিকে দোহার উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে নয়াবাড়ি, মাহমুদপুর, বিলাসপুর, সুতারপাড়া, নারিশা ও মুকসুদপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া উপজেলার ধোয়াইর বাজারসহ পূর্ব ও পশ্চিম ধোয়াইর গ্রামের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার,বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, রাধানগর, মাহমুদপুরের নারায়ণপুর, হরিচন্ডি ও মুকসুদপুরের পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলের অনেক এলাকা এখন পানির এখন নিচে। পদ্মানদী পাড়ের এই মানুষগুলো প্রাণ বাঁচাতে ও জীবিকার তাগিদে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যা কবলিতদের মধ্যে সহায়তা করা হয়েছে। নতুন করে যদি কোনো চাহিদা থাকে তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারে পানিবন্দি পরিবারগুলোর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। এছাড়া মুকসুদপুর এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গল সকালে দোহার ও নবাবগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ও নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, বন্যা আর করোনা পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। সরকার আপনাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে। সরকার আপনাদের পাশে আছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত