বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

দোহার ও নবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি, হাজারো মানুষ পানিবন্দি  

দোহার ও নবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি, হাজারো মানুষ পানিবন্দি    
ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন দোহার উপজেলার মাঝিরচরের বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। 

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দি হাজারো মানুষ। দোহার-নবাবগঞ্জ-মানিকগঞ্জ রক্ষা বাঁধ সংলগ্ল প্রায় ৩৫টি গ্রামসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তিতপালিদয়া, পানিকাউর, কঠুরি, আশয়পুর, রায়পুর, ঘোষাইল, কেদারপুর, আর ঘোষাইল, রাজাপুর, বালেঙ্গা, কান্তারটেক, খাটবাজার, নয়াডাঙ্গী, চারাখালী ও পশ্চিম সোনাবাজু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজারো পরিবার।

নবাবগঞ্জের কালিগঙ্গা নদী গিলে খাচ্ছে শোল্লা ও কৈলাইল ইউনিয়নের অসংখ্য বসতবাড়ি ও কৃষিজমি। চলমান বর্ষা মৌসুমে এ দুটি ইউনিয়নের কোন্ডা, খতিয়া, পাতিলঝাপ, মেলেং, মাতাপপুর, পাড়াগ্রামসহ বেশ কিছু গ্রামে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন সাদাপুর খালের ভাঙনে শতাধিক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে দোহার উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে নয়াবাড়ি, মাহমুদপুর, বিলাসপুর, সুতারপাড়া, নারিশা ও মুকসুদপুর ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। এছাড়া উপজেলার ধোয়াইর বাজারসহ পূর্ব ও পশ্চিম ধোয়াইর গ্রামের বেশির ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নারিশা ইউনিয়নের মেঘুলা বাজার, বিলাসপুরের মধুরচর, রানীপুর, কৃষ্ণদেবপুর, রাধানগর, মাহমুদপুরের নারায়ণপুর, হরিচন্ডি ও মুকসুদপুরের পদ্মাতীরবর্তী অঞ্চলের অনেক এলাকা পানির নিচে। ফলে পদ্মানদী তীরবর্তী এই মানুষগুলো প্রাণ বাঁচাতে ও জীবিকার তাগিদে অন্যত্র সরে যাচ্ছে।

বন্যার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়াতে দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। তলিয়ে গেছে স্কুল, হাঁট-বাজার, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা। নৌকা না থাকায় অনেকেই কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করে হাঁট-বাজার করছে। সেখানে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। পদ্মার পানিতে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছে এসব অঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

এ দিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি কয়েক দিন প্রবল বৃষ্টির কারণে নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঁশিয়া খালীর ঢাকা রক্ষা বেড়ি বাঁধটি হুমকিতে রয়েছে বলে জানান সেখানকার বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার সকালে দোহার ও নবাবগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ও নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, বন্যা আর করোনা পরিস্থিতি সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। সরকার আপনাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে। আপনারা যেন কষ্টে না থাকেন। যত দুর্ভোগ হোক সরকার আপনাদের পাশে আছে। জেলা প্রশাসক হিসেবে আমি সবসময় পাশে থাকবো।

আরো পড়ুন : লালমোহনে করোনায় চিকিৎসকের স্ত্রীর মৃত্যু

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যা কবলিতদের মাঝে সহায়তা করা হয়েছে। নতুন করে যদি কোন চাহিদা থাকে তালিকা করে সেটাও করা হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, দোহারে পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। এ ছাড়া মুকসুদপুর এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া পানিবন্দিদের মাঝে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত