বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

রংপুরে কোরবানির চামড়া কিনতে ঢিলেঢালা প্রস্তুতি

রংপুরে কোরবানির চামড়া কিনতে ঢিলেঢালা প্রস্তুতি
ফাইল ছবি

রংপুরে চলছে কোরবানির পশুর চামড়া কেনা-বেচার ঢিলে ঢালা প্রস্তুতি। তবে গতবারের লোকসান আর এবারের করোনা পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে চামড়া ব্যবসায়ীদের। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী রয়েছে দোটানায়। চামড়া কেনার আগ্রহ কমেছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদেরও। শুক্রবার দুপুরে রংপুর নগরীর হাজীপাড়া চামড়াপট্টি এলাকার ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, মহামারি করোনার সাথে বন্যার প্রভাব বাজারে পড়েছে। অর্থনৈতিক এই অচল অবস্থায় এ বছর পশু কোরবানি কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একারণে চামড়ার আমদানিও কম হবে। এছাড়াও সরকারিভাবে চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় এবার কম নির্ধারণ করায় ব্যবসায়ীদের অনেকেই চামড়া কেনা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছেন। আবার অনেকেই ঝুঁকি নিয়েই চামড়া কিনতে নিজেদের আড়ত (চামড়ার ঘর) সাজানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেউ কেউ চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে লবণ মজুদ করে রেখেছেন।চামড়াপট্টি এলাকাতে কয়েক বছর ধরে চামড়া কেনা-বেচা অনেক কমে এসেছে। গত ঈদুল আযহায় রংপুরে পৌনে দুই লাখ পশুর চামড়া কেনাবেচা হলেও এবার তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে বলে জানিয়েছে এই এলাকার ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক সময় সারা বছরই চামড়া কেনাবেচায় সরগরম থাকা চামড়াপট্টি এখন সুনসান। ঈদের একদিন বাকি থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চামড়া কেনার জন্য তেমন আগ্রহ নেই। অনেকে ঈদের দিন চামড়া কেনার প্রস্তুতি নিলেও অর্থ সংকটে রয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। নগদ টাকায় চামড়া কিনে জেলার বাহিরে ট্যানারি ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বাকিতে বিক্রি করে পাওনা টাকা তুলতে পারছেন না অনেকেই। বর্তমানে পুঁজি সংগ্রহে ব্যর্থ হয়ে অনেক ব্যবসায়ী চামড়ার ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

দশ বছর আগেও চামড়াপট্টির ব্যবসায়ীরা কোরবানির ঈদ ঘিরে আগে থেকেই জোর প্রস্তুতি নিতেন। ওই সময়টাতে দূরদূরান্তর থেকে ফড়িয়ারা চামড়া সংগ্রহ করে এই এলাকাতে আসত। তখন ঢাকা, যশোর, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন ট্যানারিতে ঈদ পরবর্তী চামড়া পাঠানোর জন্য এখানকার ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার পিস চামড়া গোডাউনে সংর¶ণ করে রাখত। কিন্তু বর্তমানের চিত্র ভিন্ন। চামড়াশিল্পের মন্দাভাবে হাতগুটিয়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা।

রংপুর মহানগরীর এক সময়ের চামড়ার আড়তখ্যাত হাজীপাড়া চামড়াপট্টিতে হাতে গোনা চার থেকে পাঁচজন বড় ব্যবসায়ী ও ১০ জনের মতো ছোট ব্যবসায়ী এই চামড়া ব্যবসা ধরে রেখেছেন। তাদের মধ্যে এখনও চামড়া কেনার তেমন তোড় জোড় দেখা যাচ্ছে না।চামড়াপট্টিতে কথা হয় মোখলেছুর রহমান নামে এক চামড়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি বলেন, গত বছর অর্থ সংকটে বেশি চামড়া কিনতে পারেননি। আর এবার তাঁর পুঁজির অবস্থা আরও শোচনীয়। তারপরও বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ করে চামড়া কেনার পরিকল্পনা করেছেন।

চামড়া ব্যবসায়ী মজিবর রহমান জানান, চামড়া শিল্পে এখন ধস নেমেছে। কারো হাতের অবস্থা ভালো নেই। বিশেষ করে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের প্রভাব পড়েছে। ১৫৪টি ট্যানারির মধ্যে সাভারে চালু হয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি। একারণে ঢাকাতে চামড়া কেনার চাহিদাও কম। তাছাড়া অনেকেই আগের পাওনা টাকা পায়নি। এখন লোকসানের ভয়ে তার মতো অনেকেই চামড়া কিনবেন কি না, তা নিয়ে দোটানায় আছেন বলেও জানান তিনি।এদিকে গত বছরের অপ্রত্যাশিত লোকসান আর এবারের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সাথে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির জন্য পশু কোরবানি অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ী নেতা মাহবুবার রহমান বেলাল।এই ব্যবসায়ী জানান, সরকার গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিবর্গ ফুট চামড়ার দাম ১০ টাকা কমিয়েছে।

রাজধানীতে লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ছাগল ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে গরুর চামড়া ২৮ থেকে ৩২ টাকা এবং ছাগলের চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এই দামে চামড়া কেনা-বেচা সম্ভব নয়।

রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান জানান, দেড়শ ট্যানারির মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ট্যানারি চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবারও চামড়ার চাহিদা থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন।

ইত্তেফাক/কেকে

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত