বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
৩০ °সে

সিলেটে পশুর বর্জ্য অপসারিত, অলিগলিতে দুর্গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত

সিলেটে পশুর বর্জ্য অপসারিত, অলিগলিতে দুর্গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত
সিলেট নগরীর কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করে পুতে ফেলা হচ্ছে। ছবি : ইত্তেফাক

সিলেট নগরীর কোরবানির পশুর বর্জ্য ও জড়ো করে রাখা চামড়ার অপসারণ কাজ শনিবার মধ্য রাতেই সম্পন্ন করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এর আগে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব অপসারণ করবেন বলে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু নগরীর বিভিন্ন পড়া-মহল্লায় এখন উৎকট দুর্গন্ধে নাগরিকদের প্রাণ ওষ্ঠাগত।

সূত্র মতে, অনেকেই পশুর রক্ত ও বর্জ্য নিজ নিজ বাসার সামনের ড্রেনে ছেড়ে দিয়েছেন। ঈদের দিন থেকে বৃষ্টি না থাকায় ঐ সব ড্রেনে বর্জ্য ও রক্ত জমাট বেধেছে। তাই বিপত্তি দেখা দিয়েছে। সুবিদবাজার, লন্ডনী রোড, লাভলী রোড, কলাপাড়া, পাঠান টুলা, জালালাবাদ, মদিনা মার্কেট এলাকায় উৎকট গন্ধে টেকা দায়।

বর্জ্য অপসারণের কাজে থাকা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১ হাজার ২০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মী শনিবার রাত ভর কাজ করে। এর সার্বক্ষণিক তদারকিতে ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজে ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হানিফুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী তানভির আহমদ তানিমসহ সংশ্লিষ্টরা।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা হানিফুর রহমান জানান, অলিগলিতেও কোন বর্জ্য বা দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে কীনা তা খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এখনো মাঠে চারটি টিম কাজ করছে। সিলেট নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য জমা হয়। কিন্তু কোরবানির ঈদের দিনে তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়। তাই কোরবানির পশুর বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের লক্ষ্যে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরো বেশ কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করে সিসিক। তারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নগরীতে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ করেছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থেকে কোরবানির পশুর চামড়া এনে নগরীর আম্বরখানায় উন্মুক্তভাবে ফেলে রাখলে বিপত্তি দেখা দেয় নগরীতে। এমন কাজটি করেছেন জগন্নাথপুরের এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। সহস্রাধিক পিছ চামড়া ফেলে রাখায় রবিবার সকাল থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকাময়। অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী সিসিককে জানান। দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশন চামড়াগুলো অপসারণ করে।

সিসিক মেয়র জানান, চামড়া স্তূপ করা ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি নিজের ইউনিয়নে চামড়া রাখতে না পেরে নগরীতে এনে স্তূপ করেন। মেয়র সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ওই চেয়ারম্যান তার সাথে উদ্ধত্বপূর্ণ আচরণও করেছেন। সিসিক মেয়র বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।

এদিকে নগরীতে ঈদুল আজহার কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা শুরু হয় শনিবার দুপুর থেকেই। মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করে আনেন। কোন কোন বাসা-বাড়ি থেকে মাদ্রাসার ছাত্ররাও চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এ বছর চামড়া সংগ্রহে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কম ছিল। তাই পশু জবাইয়ের কাজে যারা নিয়োজিত ছিলেন তারাই চামড়া নিয়ে নিয়ে যান। তবে এবার অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে চামড়া।

শনিবার বিকালে নগরী ও আশপাশ এলাকা থেকে হাজারের উপরে ছাগলের চামড়া নিয়ে জড়ো হন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে এই ছাগলের চামড়ার দর মেলেনি। সর্বোচ্চ ১০ টাকা উঠেছে ছাগলের চামড়ার দাম। তাই অনেক বিক্রেতা আড়তদারদের চামড়া ফ্রি দিয়ে এসেছেন। আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ফেলে রেখে এসেছেন। বড় আকারের গরুর চামড়া প্রতি পিস ৭০-১০০ টাকা। ছোট গরুর চামড়া প্রতি পিস ২০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা কানাইঘাটে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সারাদিন অপেক্ষার পরও ক্রেতা মেলেনি। তাই দিন শেষে কোরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেন অনেকেই। রপ্তানি যোগ্য পণ্য চামড়া। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে চামড়ার দাম নেই। তার পরও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোরবানির চামড়া বিনা টাকায় সংগ্রহ করতেন। কিন্তু এবারের ঈদুল আজহার দিনে কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেউ চামড়া সংগ্রহ করেনি। যার কারণে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার কোরবানির পশুর চামড়া শেষ পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত