মির্জাপুরে বানভাসি মানুষরা মানবেতর জীবন করছে

মির্জাপুরে বানভাসি মানুষরা মানবেতর জীবন করছে
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যার অবনতি হওয়ায় মানুষদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যার অবনতি হওয়ায় ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে দুর্গত এলাকার কয়েক শত পরিবার পশু পাখির সঙ্গে বসবাস করছেন। বিশুদ্ধ পানি সংকটসহ খাদ্য সমস্যা দেখা দেওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। আঞ্চলিক সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্যা দুর্গত এলাকার জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় বানভাসি পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ কাজ পরিচালনা করতে তাদের সমস্যা হচ্ছে।

বুধবার মির্জাপুর পৌরসভার এবং কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ গিয়ে জানা গেছে, বন্যা কবলিত এলাকার লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, ইউনিয়ন পরিষদ পানিতে ডুবে রয়েছে।

গাড়াইল, ত্রিমোহন, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি গ্রামের কয়েক শত বানভাসি পরিবার বংশাই নদীর ব্রিজ এলাকায় পলিথিন মুড়িয়ে ঝুঁপড়ি তৈরী করে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সঙ্গে বসবাস করছে গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর ও হাস-মুরগী। গত ১৫-২০ দিন ধরে এই পরিবারগুলো মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছে বলে অসহায়দের মধ্যে ময়ফল বেগম (৫৬), কাদের মিয়া (৪৫) ও ফুলমতি বেগম (৪০) জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ভাবে কোন ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে তারা ক্ষোভের কথা জানিয়েছে।

ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ জানান, পৌরসভা, ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি মৎস খামার, ফসলি জমি, সবজি, গাছপালা, গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় তিনি ত্রান সহায়তা বাড়ানোর জন্য প্রশসনের নিকট জোর দাবি জানান।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. একাব্বর হোসেন এমপি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার প্রতিটি পরিবারকে সহায়তা করার জন্য তালিকা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দলীয় ভাবে এবং প্রশাসন থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত