মির্জাপুরে বন্যায় ৪ হাজার হেক্টর আমনসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

মির্জাপুরে বন্যায় ৪ হাজার হেক্টর আমনসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
বন্যানায় ক্ষতিগ্রস্ত আমন খেত [ছবি: ইত্তেফাক]

দীর্ঘ বন্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৪ হাজার হেক্টর আমন, পাট, বীজতলা ও সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। আজ বুধবার উপজেলা কৃষি অফিস ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম জানিয়েছেন, কৃষকরা যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হন সে জন্য পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্যাকেজ ও প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই বৃষ্টি এবং অকাল বন্যার কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বছর মির্জাপুর পৌরসভা, উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বোনা ও রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫০০শ হেক্টর। কিন্তু আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় কৃষকরা নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি করতে পারেননি। ফলে রোপা ও বোনা আমন উৎপাদন হয়েছিল ৫ হাজার ৪০০শ হেক্টর। নানা প্রতিকূলতার কারণে আমনসহ ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

গত এক মাস ধরে দফায় দফায় বন্যার কারণে পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর আমন তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পরেছেন। আমনের পাশাপাশি আউশ, লেবু, কলা, শসা, বেগুন, লাউ, পেঁপে, কুমড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জামুর্কি ইউনিয়নের কৃষক সাহেদ আলী (৫৬) ও মজিবুর রহমান (৫০) বলেন, বন্যার কারণে তাদের আমন ক্ষেত পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। ফলে একমুঠো আমন ধানও এ বছর ঘরে তুলতে পারবেন না। একই ভাবে বিভিন্ন প্রজাতির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাদেও মত শতশত কৃষক এ অভিযোগ তুলে ধরেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া প্রতিকুলে ছিল। আবহাওয়া প্রতিকূলতার কারণে কৃষক নির্ধারিত সময়ে বোরো বীজতলা তৈরি করতে পারেননি। ফলে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সর্বশেষ গত এক মাসের ব্যবধানে কয়েক দফায় বন্যার কারণে আমনসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত