অবশেষে নাম পরিবর্তন হচ্ছে না মাদারীপুরের শকুনী লেকের

অবশেষে নাম পরিবর্তন হচ্ছে না মাদারীপুরের শকুনী লেকের
অবশেষে নাম পরিবর্তন হচ্ছে না মাদারীপুরের শকুনী লেকের।ছবি: ইত্তেফাক

অবশেষে নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে না মাদারীপুরের শকুনি লেকের। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপরে মাদারীপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শকুনী লেক মাদারীপুর জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী লেক। প্রতিদিন অনেক ভ্রমণ পিপাসুরা এই দৃষ্টিনন্দন লেকটি দেখতে আসেন।

বহকাল পূর্ব হতেই এই লেকটি শকুনি লেক নামে পরিচিত। এই লেকের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি এবং ঐতিহ্যবাহী এই লেকটির নাম পরিবর্তন করা হবে না। মাদারীপুরের বিভিন্ন ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণে সব সময় সচেষ্ট রয়েছে জেলা প্রশাসন।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মাদারীপুরের বিভিন্ন মহলে আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল মাদারীপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী শকুনী লেকের নাম পরিবর্তন করে ‘ডিসি লেক’ নাম করনের বিষয়টি।

জানা যায়, জন্মলগ্ন হতেই লেকটির নাম শকুনী লেক। শতাধিক বছরের পুরনো শকুনি মৌজায় অবস্থিত বলে খনন কালের শুরু থেকেই লেকটি শকুনি লেক নামে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং এ যাবৎ প্রজন্ম পরম্পরায় মাদারীপুরবাসীর মধ্যে তা নিয়ে কোনো আপত্তি বা বিতর্ক পরিলক্ষিত হয়নি।

আরও পড়ুন: রাণীশংকৈলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ

ঐতিহাসিকদের মতে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙ্গন কবলিত হয়ে শতাব্দী প্রাচীন পুরনো মাদারীপুর শহর নদী গর্ভে বিলীন হলে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন ১৯৪৩ সালে লেকটি খনন করে এর চারপাশে নতুন শহর স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়। চল্লিশের দশকে এ অঞ্চলে মাটিকাটা শ্রমিকের অভাব থাকায় ২০ একর আয়তনের এই লেক খনন করার জন্য তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চল থেকে দুই হাজার শ্রমিক ভাড়া করে আনে। নয় মাসে লেকটির খনন কাজ সম্পন্ন হয়। এটি এ অঞ্চলের দীর্ঘতম লেক হিসেবে পরিচিত। মাদারীপুর জেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই লেকের আয়তন ১ লক্ষ ১ হাজার ১৭২ বর্গমিটার, দৈর্ঘ্য ৪৮৬ মিটার ও প্রস্থ ১৯৮ মিটার। ১৮৭৫ সালে জমিজমার কাগজপত্রে শকুনী মৌজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সেই শকুনী মৌজায় অবস্থিত বলে স্বাভাবিকভাবেই লেকটিরও শকুনী লেক নামকরণ হয়। তার পরবর্তীতে প্রজন্ম পরস্পরায় এই লেকটি স্থানীয়দের বিনোদন, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও প্রশান্তির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। গত দশকে লেকটি সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিলে ২০১৩ সালে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে লেকটির সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। যার ফলে লেকটিকে ঘিরে বঙ্গবন্ধু মুরাল, শহীদ কানন, শিশু পার্ক, স্বাধীনতা অঙ্গন, এম্ফি থিয়েটার মঞ্চ, পাকা ঘাট, ওয়াচ টাওয়ারসহ দৃষ্টি নন্দন নানা উপকরণে লেকটি মাদারীপুর জেলাসহ আশেপাশে নানা অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, মাদারীপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক কামাল উদ্দিন বিশ্বাসের মেয়াদকালে একটি মিটিংয়ে এ প্রস্তাবের সূচনা হয়। সে মিটিংয়ে উপস্থিত সুধী মহলের বেশিরভাগই নাম পরিবর্তন না করার পক্ষে কথা বলেন। সে কারণে দীর্ঘদিন সে আলোচনা স্থগিত ছিল। তবে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম তার কর্ম দিবসের শেষ দিকে শকুনী লেককে ডিসি লেক নামে নামকরণের নির্দেশনা দিয়ে যান।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত