মির্জাপুরে ছেলের গ্রেফতারের খবর শুনে মায়ের মৃত্যু !

মির্জাপুরে ছেলের গ্রেফতারের খবর শুনে মায়ের মৃত্যু !
ফাইল ছবি।

পুলিশের হাতে ছেলের গ্রেফতারের খবর শুনে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার ভুক্তভোগি পরিবার এ অভিযোগ করেছেন।

মির্জাপুর থানা পুলিশ সুত্র জানায়, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের কন্যা হিলারী আক্তার (২৫) এর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের সাহাদত হোসেন দুদু মিয়ার ছেলে অনিক হোসেন (আব্দুর রউফ) এর সঙ্গে ৫-৬ বছর পুর্বে প্রেমের সম্পর্ক হয়ে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক সন্তানও রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের জের ধরে পরিবারের অগোচরে তাদের সম্পর্কের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং ডিভোসের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গত ৭ জুলাই হিলারী আক্তার তার স্বামী অনিকের বিরুদ্ধে টঙ্গি থানায় গোপনে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে সন্তানের ভবিষ্যৎ দিক বিবেচনা করে অনিক ও হিলারীর সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য উভয় পরিবারের সম্মতিতে ঘটনার মিমাংসার জন্য এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেলের পাকুল্যার বাড়িতে সালিশ বসে। শালিসে ঘটনার মিমাংসার শেষ পর্যায়ে এসে মির্জাপুর থানার উপ পরিদর্শক মো. এরশাদ মিয়া শালিসে উপস্থিত হয়ে অনিক হোসেনকে গ্রেফতার করে টেনে হেচড়ে মির্জাপুর থানায় নিয়ে আসে। এর আগে উপস্থিতরা বিষয়টি জানতে চাইলে পুলিশ অফিসার এরশাদ মিয়া ও হিলারী আক্তারের ভাই জীবন তাদের নানা ভাবে নাজেহাল করেন বলে সাবেক চেয়ারম্যান দুলাল ও আসাদ অভিযোগ করেন।

এদিকে ছেলের গ্রেফতারের খবর শুনে অনিকের মা আছিয়া বেগম অসুস্থ হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল সদর হাসাপালে মারা যান বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অনিকের পরিবার অভিযোগ করেছেন, পুলিশের অমানবিক আচরণের কারণেই অনিকের বৃদ্ধা মা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার পর এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার উপ পরিদর্শক মো. এরশাদ মিয়া এবং টঙ্গি থানার উপ পরিদর্শক মো. নাজমুল হোসেন বলেন, অনিকের স্ত্রীর দায়ের করা মামলা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে টঙ্গি থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তারা অস্বীকার করেন।

ইত্তেফাক/এমআরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত