মির্জাপুরে বন্যায় জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই লাখ পরিবার

মির্জাপুরে বন্যায় জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই লাখ পরিবার
মির্জাপুরে বন্যাকবলিত একটি এলাকা।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দীর্ঘ স্থায়ী বন্যায় জলাবদ্ধতায় প্রায় দুই লাখ পরিবার এখন পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন জীবন যাপন করছেন। বন্যা পরিস্থিতি সামান্য উন্নতি হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে থাকা দুর্গত এলাকার লোকজন কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছে।

আজ রবিবার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। মির্জাপুর পৌরসভার কুমারজানি, পুষ্টকামুরী, ত্রিমোহন, সরিষাদাইর, সাহাপাড়া, বাইমহাটি, আন্ধরা, কুতুব বাজার, সদরের বাহিরে ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়ক, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দিও, বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন পরিষদ পানিতে ডুবে রয়েছে। সাটিয়াচড়া শিবনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহেড়া ইউনিয়নের আদাবাড়ি গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং বংশাই নদীর ত্রিমোহন ব্রিজে আশ্রয় কেন্দ্রে বানভাসি পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গত ২০-২৫ দিন ধরে এই পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। কিছু পরিবার ঈদের আগে ভিজিএফের ১০ কেজি করে চাল পেলেও অধিকাংশ পরিবার আজ পর্যন্ত পায়নি কোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা।

আনাইতারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বন্যায় জলাবদ্ধতার শিকার পৌরসভারসহ ১১ ইউনিয়নের বানভাসি পরিবারগুলো অনাহার অর্ধাহারে দিন যাপন করছেন। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কিছু কিছু পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি মৎস্য খামার, ফসলি জমি, সবজি, গাছপালা, গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় তারা ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানান।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় বানভাসি অসহায় পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত