মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ২, ওসি প্রত্যহার!

মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ২, ওসি প্রত্যহার!
রংপুরের মিঠাপুকুরে চোর সন্দেহে নৈশপ্রহরীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। ছবি: ইত্তেফাক

রংপুরের মিঠাপুকুরে চুরির অভিযোগে তছলিম উদ্দিন (৫০) নামে এক নৈশ প্রহরীকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার শঠিবাড়ীহাটে মুদিবাজারে এ ঘটনা ঘটে। তাকে উদ্ধার করে রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দুপুরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদি হয়ে ইয়াছিন আলীসহ দশজনের নামে এবং অজ্ঞাত আর ১০-১২ জেেনর নামে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে।

নৈশপ্রহরী তছলিম উদ্দিন উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের শীতলগাড়ী গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানায়, মুদিবাজারে নৈশ প্রহরী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেন তছলিম উদ্দিন। শনিবার ভোররাতে তার দায়িত্বপালন এলাকায় সাহেব আলী নামে একজনের মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয়রা রমজান আলী (১৮) নামে এক চোরকে আটক করেন। সে পাশের পীরগঞ্জ উপজেলার জীবনানন্দ গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে। ধরা পড়ার পর উপস্থিত লোকজনকে রমজান মিথ্যা তথ্য দেয়, নৈশ প্রহরী তছলিমও ওই চুরির সঙ্গে জড়িত। এতে স্থানীয় জনতা ওই দুইজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে তছলিম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে রমেক হাসাতালে ভর্তি করা হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন দুপুর ১২ টার দিকে তিনি মারা যান।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ওসি জাফর আলী বিশ্বাস পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। গণপিটুনির মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যাকারীদের সনাক্ত করে গ্রেফতার অভিযান চলছে।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এমন ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে রবিবার মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ জাফর আলী বিশ্বাসকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত