আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাপ দাদার সম্পত্তি ফেরতের দাবি

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বাপ দাদার সম্পত্তি ফেরতের দাবি
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জে র‌্যালী। ছবি: ইত্তেফাক

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম এলাকার সাঁওতালরা তাদের বাপ দাদার জমি ফেরত, তিন সাঁওতাল হত্যা ও তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন করেছে।

রবিবার সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, এএলআরডি ও জনউদ্যোগ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিক্ষুব্ধ সাঁওতালরা গোবিন্দগঞ্জের মাদারপুর-জয়পুর সাঁওতাল পল্লী থেকে ১৪ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ফেস্টুন, পতাকাসহ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা মোড়ে এসে মানববন্ধন করে।

মানববন্ধন চলাকালে সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্ম-ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, পরিবেশ আন্দোলনের আহ্বায়ক ওয়াজিউর রহমান রাফেল, আদিবাসী বাঙালী সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, কমিউনিস্ট পার্টি উপজেলা শাখার সভাপতি তাজুল ইসলাম, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, সাঁওতাল হত্যার মামলার বাদি থমাস হেমব্রম, আদিবাসী নেত্রী তৃষ্ণা মুর্মু, ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির নেতা স্বপন শেখ, গণেশ মুর্মু, রাফায়েল হাসদা প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ঘটনার প্রায় চার বছর পার হলেও তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেনি। চূড়ান্ত অভিযোগ পত্রে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এজাহারভূক্ত আসামি গোবিন্দগঞ্জ আসনের তৎকালীন এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও প্রকাশ্যে সাঁওতালদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগকারী অতি উৎসাহী পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম বাদ দেওয়ায় হয়েছে। সারা পৃথিবীর গণমাধ্যমে প্রকাশিত আগুন লাগানোর ফুটেজ, ছবি প্রকাশ পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি। এর মাধ্যমে সাঁওতালদের সঙ্গে পরিহাস করা হয়েছে।

বক্তরা দাবি জানান, বর্তমানে সিআইডি’র কাছে থাকা তদন্তাধীন মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে চার্জ গঠন করা হোক।

বক্তারা আরও বলেন, করোনাকালীন সময়ে সাঁওতালদের জীবন জীবিকা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। সাঁওতালরা অর্ধাহারে অনাহারে দিনযাপন করছে, কিন্তু প্রশাসন থেকে কোনো কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সভাপতির বক্তব্যে ফিলিমন বাসকে বলেন, এই বিচারহীনতা প্রমাণ করে জাতিগত সংখ্যালঘু সাঁওতালদের কতো অবহেলার চোখে দেখা হয়! মহান মুক্তিযুদ্ধে সাঁওতাল-বাঙালিরা মিলে এদেশ স্বাাধীন করেছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর তারা নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। সেই ভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে শ্যামল, মঙ্গল ও রমেশ। এখন তাদের সেই হত্যার ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ কোন বাংলাদেশে তারা বসবাস করছে। তিনি প্রশ্ন করেন- এজন্যই কি মুক্তিযুদ্ধে তারা অংশ নিয়েছিলেন?

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত