অগ্রণী ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিস

পিরোজপুর থেকে বরিশালে একীভূত করা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

পিরোজপুর থেকে বরিশালে একীভূত করা নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

৩৫ বছর আগে স্থাপিত অগ্রণী ব্যাংকের পিরোজপুরের আঞ্চলিক অফিস বরিশালের সঙ্গে একীভূত করার পাঁয়তারা চলছে। মহলবিশেষের এ চেষ্টা কার্যকর হলে ব্যাংকটির পিরোজপুর অঞ্চলের শাখাসমূহ থেকে ঋণ প্রস্তাব মঞ্জুরিকরণসহ নানা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যেমন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে তেমনি ঋণগ্রহীতা তথা গ্রাহকরা ভালোমানের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। এছাড়া এ খবরে ব্যাংকের পিরোজপুর অঞ্চলের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত স্টাফ ও গ্রাহকদের মধ্যে মারাত্মক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পিরোজপুর আঞ্চলিক অফিস প্রধানের সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাম্প্রতিক এক ভিডিও কনফারেন্সে বিলুপ্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এ সময় আর্থিক নেতিবাচক পরিস্থিতির অজুহাত তুলে এই সিদ্ধান্ত অচিরেই কার্যকর করা হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এদিকে ১৯৮৫ সালের ১৫ জুলাই স্থাপিত আঞ্চলিক অফিসটি একটি লাভজনক কার্যালয় হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া ব্যাংকের পিরোজপুর অঞ্চলের শ্রেণিকৃত ঋণ চার শতাংশের নিচে, যা বাংলাদেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে কম ছাড়া বেশি নয়। বর্তমানে আমানতের পরিমাণ প্রায় ৩৬২ কোটি টাকা এবং ঋণের পরিমাণ ১০৫ কোটি টাকা। এ অঞ্চলে শাখার সংখ্যা সাতটি যার অবস্থান দূরে দূরে। এছাড়া এ অঞ্চলে একাধিক বড় নদীর কারণে আঞ্চলিক কার্যালয় বরিশাল থেকে মনিটরিং করা কঠিন। শাখাগুলোর দূরত্ব বরিশাল বিভাগের শহর থেকে কোথাও কোথাও ১০০ কিলোমিটারের বেশি। সে ক্ষেত্রে শাখা থেকে প্রেরিত ঋণ প্রস্তাব মঞ্জুরিকরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে যা এ অঞ্চলের গ্রাহকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। এমনকি পিরোজপুর অঞ্চলকে বিলুপ্ত করলে ব্যাংকের মঠবাড়িয়া ও মিরুখালী শাখা দুটিও পটুয়াখালী অঞ্চলে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা আরো আত্মঘাতী। যেখানে পিরোজপুরের নিকটবর্তী রাজাপুর, আমুয়া বাজার ও শেখেরহাট শাখা নিয়ে এ অঞ্চলের সাতটি শাখাকে ১০টিতে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলার জগন্নাথকাঠী ও মিয়ারহাট এবং নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী, মাটিভাংগা, বৈঠাকাটা বাজার ও নাজিরপুর সদর এ রকম ছয়টি স্থানে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা খোলার দাবি দীর্ঘদিনের।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহম্মদ শামস্ উল ইসলাম বলেন, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির আলোকে পিরোজপুরের আঞ্চলিক কার্যালয়টি বরিশালে একীভূত করার সিদ্ধান্ত বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ব্যবসায়ী বা সাধারণ গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, কোনো অর্থনৈতিক সমস্যাও সৃষ্টি হবে না। ঋণসহ জনবান্ধব সেবাগুলো গুরুত্বপূর্ণ শাখা থেকেই প্রদান করা হবে।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত