ফরিদপুর আওয়ামী লীগে বিতর্কিত কামরুলের যোগদান, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ফরিদপুর আওয়ামী লীগে বিতর্কিত কামরুলের যোগদান, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
পরিবহন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগে যোগদান। ছবি-ইত্তেফাক

ফরিদপুরের আলোচিত, সমালোচিত পরিবহন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সিদ্দিকীর আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। নেতারা বলছেন, অনুপ্রবেশকারী লুটেরাদের হটিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ফরিদপুরের আওয়ামী লীগে সুদ্ধি অভিযান চালিয়ে সুষ্ঠু ধারায় ফিরিয়ে আনছেন, তখন কামরুলের মত বিতর্কিতদের দলে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে মূলত প্রধানমন্ত্রীর এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুর ভাঙ্গা উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দেন পরিবহন ব্যবসায়ী কামরুল। মূলত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহ গ্রুপের নেতাকর্মীদের হাতে ফুল দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন। কামরুলের যোগদানের খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে জেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ঘারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী সোবাহান মুন্সি ও শরীফউদ্দিন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রহমান ও সম্পাদক শাহিন শেখ প্রমুখ।

একাধীক আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী গত কয়েকমাস ধরে ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ থেকে সন্ত্রাসী, টেন্ডারবাজ ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আবারো সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনছেন। সেই সময়ে বহু মামলার আসামী বিতর্কিত একজন লোককে আওয়ামী লীগে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুদ্ধি অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হলো।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকি আওয়ামী লীগ নেতা রাজু হত্যা মামলা, যুবলীগ নেতা বশির আহমেদ হত্যা মামলা, শ্রমিক নেতা আমীর আলী হত্যা মামলাসহ অন্তত ডজন খানেক মামলার আসামি ছিলেন। এছাড়াও চাঁদাবাজী ও হত্যার হুমকি দেয়ার কারণে প্রায় ২ ডজন সাধারণ ডায়রির তথ্য পাওয়া গেছে কামরুলের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, কামরুল মিঠু সাহা নামের একজনের গাড়ি দিয়ে ফরিদপুর বাস মালিক সমিতির সদস্য হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই সময়ে ফরিদপুরের বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন কামরুল। এরপরে ৪ বার তিনি এই পদে নির্বাচিত হন। সর্বশেষ নির্বাচিত হওয়ার পরে চাঁদাবাজী মামলায় পুলিশের হাতে আটক হলে সাধারণ বাস মালিকরা তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শামসুল হক ভোলা মাস্টার ইত্তেফাককে বলেন, কামরুলের যোগদান আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে না বলে আমি মনে করি। যাদের যোগদান করানো হলো তারা ফরিদপুর ভিত্তিক রাজনীতি করে, যদিও কামরুলের বাড়ি ভাঙ্গা বলে শুনেছি, কাজী জাফরউল্ল্যাহ সাহেব এটাকে ভিত্তি করে হয়ত তাদের যোগদান করিয়েছেন। তারা তো কোনদিন ভাঙ্গা ভিত্তিক রাজনীতি করেও নাই আর করবেও না, তারা ফরিদপুর ভিত্তিকই রাজনীতি করবে, এবং তাদের রাজনীতি ফরিদপুরে কতটা বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে এবং ফরিদপুরে দীর্ঘদিন যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন তারা তাদের কিভাবে গ্রহণ করবে, সাদরে গ্রহণ করবে কি করবে না সেটা কাজী জাফরউল্ল্যাহ সাহেব মোটেও বিবেচনায় রাখেননি। তাই মনে করি এটি আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক কিছু হয়নি।

তিনি আরো বলেন, গত দুই বারে সারাদেশে বিপুল ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নিরুঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতায় জয়লাভ করছে, সেই সময়ে অতীতে যারা আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করেছে তাদের আওয়ামী লীগে এনে কতটা লাভ হবে? এর মাধ্যমে মূলত কাজী জাফরউল্ল্যাহ সাহেব তার ভোটের মাঠের দেওলিয়াপনাই প্রমাণ করেছে।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন আহমেদ মানু বলেন, এই সময়ে দলের হাই কমান্ডের নির্দেশনা ছাড়া কোন যোগদান অনুষ্ঠান করার সুযোগ নেই। যোগদানকৃত নেতারা জাকের পার্টি করতো বলে জানি। দলের সুবিধার্থেই তাদের যোগদান করানো হয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র জানান, কামরুল সদর আওয়ামী লীগে যোগ দেয়নি। সে ভাঙ্গা থেকে যোগ দিয়েছে। তার বিষয়ে ভাঙ্গা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সঠিক তথ্য দিতে পারবে। ভাঙ্গা আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর সে আমার সঙ্গে দেখা করেছে। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো শোনা যাচ্ছে সে সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানিনা। কিন্তু অভিযোগগুলো সত্য হলে সদর আওয়ামী লীগের কমিটি আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সবকিছু না জেনে এর থেকে বেশি কিছু আমি বলতে চাই না।

এদিকে নিজের ওপর আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন জানিয়ে ভাঙ্গা আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া পরিবহন ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, আমি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হচ্ছে তা যাচাই-বাছাই করা উচিত।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত