সিলেটে দুবাই-আবুধাবির টিকিটের জন্য হাহাকার

সিলেটে দুবাই-আবুধাবির টিকিটের জন্য হাহাকার
বিমান অফিসের সামনে বিক্ষোভ। ছবি-ইত্তেফাক

মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ও আবুধাবির টিকিটের জন্য সিলেটে চলছে হাহাকার; কিন্তু টিকিট যেন সোনার হরিণ। এই অবস্থায় কারো ভিসার মেয়াদ চলে গেছে। আবার কারো মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। তবুও তারা ফিরে যেতে পারছেন না কর্মস্থল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বা আবুধাবিতে। এ অবস্থায় সিলেটে আটকা পড়া প্রায় ৪ হাজার প্রবাসী চোখে অন্ধকার দেখছেন। গত কয়দিন ধরে ঐসব দেশের যাত্রীরা সিলেটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করছেন।

করোনা পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বন্ধ থাকার পর গত ৪ জুলাই থেকে আবার ফ্লাইট চালু হলে দুবাই ও আবুধাবি প্রবাসীরা সে দেশের সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে ফিরে যাওয়া শুরু করেছেন; কিন্তু টিকিট সংকটের কারণে তারা যেতে পারছেন না। এমনকি অন্যান্য এয়ার লাইন্সের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে দুবাইয়ে পাঁচটি ও আবুধাবিতে দুইটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। টিকিটের চাহিদা আকাশচুম্বী। এই সুযোগে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের দাম রাখছে দুই থেকে তিন গুণ বাড়তি। একইভাবে অন্যান্য গন্তব্যের বিমান টিকিটের দামও চড়া। ফলে করোনাকালে দেশে আসা প্রবাসীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। একদিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ প্রতিবেদন যোগাড় করতে হয়। অন্যদিকে এই সময়ের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী বিমানের টিকিট পাওয়া যায় না। আবার দেনদরবার করে টিকিট পাওয়া গেলেও দাম আকাশছোঁয়া। সিলেটে এক ট্রাভেলস মালিক ইত্তেফাককে বলেন, বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও সাতটির বেশি বিমান সংস্থা এই সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন রুটে যাতায়াত করছে। বিমানের সংখ্যা বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। এ অবস্থায় যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। ট্রাভেল এজেন্সির মালিকেরা বিমানের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলছেন।

গত মঙ্গলবার থেকে আবুধাবি প্রবাসীদের ফিরে যেতে অ্যাপ্রোভাল লাগবে না—এমন ঘোষণার পর প্রবাসীরা বিমান অফিসে টিকিটের জন্য ভিড় করেন; কিন্তু টিকিট নেই। চাকরি হরানোর দুঃসহ বেদনায় অনেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। গত কয়েক দিন থেকেই বিমান অফিসের গেটের সামনে অসংখ্য যাত্রীকে রোদ-বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভেতরে জায়গা থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, করোনাকালেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে টিকিটের জন্য। তারপরও টিকিট নেই। রোদ-গরমে তারা অতিষ্ঠ। তাদের অভিযোগ, যারা টাকা দেয় তাদেকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

এফবিসিসিআইর পরিচলক খন্দকার শিপার আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, এরা রেমিট্যান্সযোদ্ধা। এদের সমস্যা হলে দেশের ক্ষতি। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের বিষয়টি ভাবা দরকার।

সিলেট বিমান অফিসের জেলা ব্যবস্থাপক মো. শাহনেওয়াজ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশ বিমানের টিকিটের সংকট চলছে। আগামী ৩০ তারিখ পর্যন্ত বিমানের কোনো ফ্লাইটে আসন খালি নেই।

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত