অবশেষে কপোতাক্ষ চরভরাটি জমিতে প্রশাসনের লাল নিশান

অবশেষে কপোতাক্ষ চরভরাটি জমিতে প্রশাসনের লাল নিশান
সাতক্ষীরার তালায় চরভরাটি জমিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উড়ানো হয়েছে লাল নিশানা [ছবি: ইত্তেফাক]

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আটঘরা-জেঠুয়া এলাকায় কপোতাক্ষ নদের চরভরাটি জমি দখল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। ইতিমধ্যে চরভরাটি জমিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উড়ানো হয়েছে লাল নিশানা। তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম নির্দেশে খেশরা ইউনিয়নের তহশীলদার গগণ দেবনাথ ও সার্ভেয়ার বরকতুল্লাহ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকালে এ লাল নিশান দিয়ে যান।

তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের তহশীলদার গগণ দেবনাথ জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম স্যারের নির্দেশে চরভরাটি জমিতে লাল নিশান উড়ানো হয়েছে।

তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার রবিউল ইসলাম জানান, চরভরাটি জমিতে লাল নিশান উড়ানো হয়েছে। কেউ যেনো জমিতে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, কপোতাক্ষের নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ২৬১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ (প্রথম পর্যায়) খনন কাজ বাস্তবায়ন করে। এর ফলে কপোতাক্ষ অববাহিকার প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হন। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা না হওয়ায় মানুষের জীবন জীবিকা অনেকটা নিরাপদ হয়ে ওঠে।

এদিকে নদটি খননের পূর্বে কপোতাক্ষের চরভরাটি জমি সরকারের কাছে থেকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পায় ৩৪ জন ভূমিহীন পরিবার। সি,এস ম্যাপ অনুযায়ী কপোতাক্ষ খননের পর ভূমিহীন পরিবারগুলোর বন্দোবস্তকৃত ঐ জমি চলে যায় নদের মধ্যে। ওই সময়ে আন্দোলন শুরু করে বন্দোবস্ত পাওয়া ৩৪ ভূমিহীন পরিবার।

আন্দোলনের মুখে খুলনার সাবেক বিভাগীয় কমিশনার আব্দুস সামাদ পার্শ্ববর্তী চরভরাটি জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খনন কাজ চলমান রাখেন। বিভাগীয় কমিশনারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিপাকে পড়েন বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবার। এই সুযোগে আটঘরা-জেঠুয়া গ্রামের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকুরীজীবীসহ প্রভাবশালীরা পার্শ্ববর্তী চরভরাটি প্রায় ৫০ বিঘা জমি দখল করে নেয়। এতে বঞ্চিত হয় প্রকৃত ভূমিহীনরা। এনিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইনসহ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে তালা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কপোতাক্ষ নদের ঐ চরভরাটি জমিতে উড়ানো হয়েছে লাল নিশান।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত