রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কে বৃক্ষরোপণ, উদ্যোক্তাদের স্পেস বরাদ্দ ও সমঝোতা স্বাক্ষর

রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কে বৃক্ষরোপণ, উদ্যোক্তাদের স্পেস বরাদ্দ ও সমঝোতা স্বাক্ষর
রাজশাহীতে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এন্ড ট্রেনিং সেন্টারে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্পেস বরাদ্দপত্র হস্তান্তর এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কনভেনশন হল স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ছবি: ইত্তেফাক

মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে সারাদেশে এক লক্ষ বৃক্ষের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহী’ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এন্ড ট্রেনিং সেন্টারে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্পেস বরাদ্দপত্র হস্তান্তর এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আওতায় কনভেনশন হল স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে এসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। উদ্বোধক ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, শিক্ষানগরী রাজশাহীতে হাইটেক পার্ক অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক বাস্তবায়িত হচ্ছে। শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন এন্ড ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিং নিয়ে এখানকার তরুণ-তরুণীরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এখন থেকে আর চাকুরির পেছনে ছুটতে হবে না, নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে মানুষকে চাকুরি দিবে। আগামী দিনে আইসিটি হবে দেশের আয়ের অন্যতম বৃহৎ খাত।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, শোকের মাসেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই আইসিটি বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য। রাজশাহীকে একটি প্রযুক্তি নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থানের একটি ডিজিটাল ইকোনমিক হাব হিসেবে রাজশাহীর ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ আয়েন উদ্দিন, মহিলা আসন-৩৭ এর সাংসদ আদিবা আনজুম মিতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহী’ প্রকল্পের পরিচালক (উপসচিব) এ. কে. এ. এম ফজলুল হক, রাসিকের কাউন্সিলরবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নাগেশ্বরীতে বাড়ি ফেরার পথে দুই কিশোরী ধর্ষণের শিকার

রাজশাহীতে সদ্য নির্মিত শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন এন্ড ট্রেনিং সেন্টার’ গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭২ হাজার বর্গফুট বিশিষ্ট এই ভবনে স্টার্ট-আপদের জন্য বিনামূল্যে স্পেস রাখা হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই এই ইনকিউবেশন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মাত্র তিন বছরের মধ্যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরাদ্দপত্র প্রদান করা হলো। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মজিব হাই-টেক পার্ক-এ কনভেনশন হল স্থাপন করবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। এ লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন পরিচালক (যুগ্মসচিব) এ এন এম সফিকুল ইসলাম এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সচিব আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক-এ ১০ তলা বিশিষ্ট জয় সিলিকন টাওয়ারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পদ্মাপাড়ে মনোরম পরিবেশে প্রায় ২৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে উঠছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক’ স্থাপনের কাজ শেষ হলে প্রায় ১৪ হাজার জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এর আওতায় সারা দেশে প্রথম পর্যায়ে ২৮টি হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। রাজশাহীতে প্রায় ৩১ একর জায়গায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক গড়ে উঠছে। হাই-টেক পার্কগুলোতে দক্ষ মানবসম্পদ এর চাহিদা পূরণে রাজশাহী ও নাটোরে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং দেশের আরো ১০টি স্থানে চলমান আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় ট্রেনিং কাম ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হবে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত