সাভারে পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধনের অভিযোগ

সাভারে পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধনের অভিযোগ
সাভারে প্রাণ প্রকৃতি নামের মাছের খামারে মরে ভেসে ওঠা মাছগুলো। ছবি: ইত্তেফাক

সাভারে একটি মাছের খামারে বিষ ঢেলে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে সাভারের জিরাবো এলাকার দেওয়ান ইদ্রিস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন এলাকার প্রাণ প্রকৃতি নামের মাছের খামারে গিয়ে মরা মাছের স্তুপ দেখা গেছে। পুরো এলাকার ছড়িয়ে পড়েছে মরা মাছের পচা দুর্গন্ধ। এদিকে মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, পুকুরে পানিতে যে উপাদনগুলো থাকা উচিত তার বিস্তর তারতম্য পাওয়া গেছে। অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল সর্বনিম্নমাত্রার অর্ধেকেরও কম। তবে আদৌ বিষ ঢালা হয়েছে কিনা তা নিরূপনে কোনো যন্ত্রপাতি আমাদের নেই।

মৎস্য খামারী শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী বলেন, আমরা পাঁচ ভাই প্রায় ৪০ বিঘা জায়গা জুড়ে খামার করে দীর্ঘদিন ধরে মাছের চাষ করে আসছি। খামারে বিভিন্ন মাছের চাষ করা হতো। বৃহস্পতিবার রাত থেকে হঠাৎ খামারের মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠতে শুরু করে। এসময় ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে প্রায় ৩০ টন মাছ অপসারণ করে মাটিতে পুতে রাখা হয়। এছাড়া এখন পর্যন্ত প্রায় একশ টন মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠায় আমাদের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বড় ভাই শরিফুল ইসলাম ব্যাপারী আলমাস বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২২ বছর ধরে মাছের চাষ করলেও বিগত দিনে এমন ঘটনা ঘটেনি। কেউ পূর্ব শত্রুতার জেরে পানিতে বিষ মিশিয়ে দিতে পারে। দুর্বৃত্তরা শুধু মাছই মারে নি, তারা জেলেসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকের জীবিকায় বিষ দিয়েছে। আমরা সাভার উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের নথিভুক্ত চাষী। ২০১৬ সালে আমরা সাভার উপজেলার সেরা মৎস্য উদ্যোক্তা নির্বাচিত হয়েছিলাম। কে বা কারা আমাদের স্বপ্নের এই খামারের পানিতে বিষ মিশিয়ে এত বড় ক্ষতি করলো আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

আরও পড়ুন: পাবনায় হাজারও মানুষের পদচারণায় মুখর শিলাইদহ ঘাট

সাভার উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠার খবর পেয়ে আমাদের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পানি পরীক্ষা করে পানিতে সমস্যা পাওয়া গেছে। পানিতে অক্সিজেনের পরিমান কম এবং এ্যামেনিয়া ও পিএইচ এর পরিমান বেশি পাওয়া গেছে। যদিও পুকুরের মালিকরা অভিযোগ করেন বিষ প্রয়োগে তাদের মাছগুরো মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পানিতে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা তা নিরুপনের কোনো যন্ত্রপাতি আমাদের মৎস্য অধিদপ্তরে না থাকার কারণে আমারা পরীক্ষা করতে পারছি না।

তিনি বলেন, সাধারনত পানিতে পিএইচ থাকার কথা সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৮। সেখানে পাওয়া গেছে ৯ এর ওপরে। এ্যামোনিয়া থাকার কথা .০৫, কিন্তু পাওয়া গেছে .৫ যা অনেক বেশি এবং অক্সিজেন থাকার প্রয়োজন সর্বনিন্ম ৫, সেখানে মাত্র ২ পাওয়া গেছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত