গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঈদগাহ মাঠ

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঈদগাহ মাঠ
তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভাঙছে পূর্ব ইচলী ঈদগাহ মাঠ।

তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভাঙছে পূর্ব ইচলী ঈদগাহ মাঠ। শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কে আবারও দেখা দিয়েছে ভাঙন।

গত দু’দিনে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ইচলী এলাকায় অর্ধশত ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিস্তার মূল প্রবাহ শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর নিচ দিয়ে প্রবাহিত না হয়ে দুটি নতুন চ্যানেলে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, শংকরদহ এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে ভিন্ন চ্যানেল বের হয়ে চর ইচলী হয়ে এসকেএস বাজার দিয়ে একটি, গঙ্গাচড়ার শেষ প্রান্ত সেরাজুল মার্কেটের কাছে সেতুর নিচ দিয়ে অন্য চ্যানেলটি প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন এই গতিপথ দুটো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এতে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর সংযোগ সড়কের উত্তর পাশের তিনটি সেতু (৪২ মিটার, ১২ মিটার ও ৪৮ মিটার) ও সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বালুর বস্তা দিয়ে সেতুগুলো রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে কোন সময় পানির তোড়ে সড়ক ও সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেরাজুল মার্কেটের কাছে এলজিইডি নির্মিত মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কটির ৩০ মিটার ব্লক ধসে গেছে। এসকেএস বাজারের পূর্বপাশে পূর্ব ইচলী এলাকার ঈদগাহ মাঠটি চোখের সামনেই রাস্তাসহ বিলীন হচ্ছে। সেই সাথে বেসরকারি সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চর ইচলী এলাকার মোনাজাত উদ্দিন আনন্দলোক বিদ্যালয়টিও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় লোকজন ভাঙনের ভয়ে তাদের বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া পূর্ব ইচলী হরি মন্দির, জয়রামওঝা ঈদগাহ মাঠ ও কবরস্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি। স্থানীয় লোকজন ভাঙন ঠেকাতে নিজেদের উদ্যোগেও গাছ, বাঁশ ও বালুর বস্তা ফেলছেন। পুর্ব ইচলি, পশ্চিম ইচলী, বাগেরহাট, শংকরদহ, জয়রামওঝা এালাকায় প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, পূর্ব ইচলী ঈদগাহ মাঠ ও মোনাজাত উদ্দিন আনন্দলোক বিদ্যালয়টি হয়তো আর রক্ষা করা যাবে না। মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কে ভাঙনের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি জানান, গত দু’দিন ধরে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেইসাথে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী তবিবুর রহমান ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে পাশ্ববর্তী ঈদগাহ মাঠটিও। তা রক্ষায় আপাতত জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।

রংপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল হক জানান, বাঁধ ভেঙে তিস্তা আরও দুটি ভিন্ন চ্যানেলে প্রবাহিত হওয়ায় শেখ হাসিনা গঙ্গাচড়া সেতুর উত্তর প্রান্তে নির্মিত তিনটি সেতু ও সড়ক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতু রক্ষায় বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত