বন্ধুর ‘বেঈমানি’: ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

বন্ধুর ‘বেঈমানি’: ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা
সাহেদুল ইসলাম ।

ঘনিষ্ট বন্ধুর ‘বেঈমানিতে’ শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন অনার্স পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী।

শুক্রবার দিনগত রাত ১টার দিকে কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে এ ঘটনা ঘটে। বিপদাপন্ন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো সাহেদুল ইসলাম (২১) পিএমখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জুমছড়ি এলাকার রমজান আলী মেম্বারের ছেলে। তিনি রামু সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তার ভাই মোশারফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাহেদ অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামেও নিয়ে যায়। সেখানে বিভিন্ন টেস্ট (পরীক্ষা) করালে তার শরীরে তেমন কোন সমস্যা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন। এরপর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। হঠাৎ শুক্রবার রাতে সে ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে বিষপান করে।

শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাহেদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে লিখেছে, ‘এর নাম সোহেল। আইডির নাম, চামি চুমির। একসময় সোহেল আমার বন্ধু ছিল, আর আমার কাছাকাছি থেকে আমাকে মেরে ফেলার জন্য, বৈদ্য থেকে সে যাদু টোনা (ওষুধ) করছে আমাকে। আমি দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনেক কষ্ট পাচ্ছি। একেকটা রাত আমার জন্য একেকটা কেয়ামত। আমি আর সহ্য করতে পারছি না, তাই আত্মহত্যা করলাম। আমার মৃত্যুর জন্য সোহেলই দায়ী। আপনারা তাকে ছাড়বেন না। আমি কাপুরুষ নই, আমি কষ্ট আর সহ্য করতে না পারায় আত্মহত্যা করলাম। এখানে আমার পরিবারের কোন দায়ী নেই, গত ১৫ দিনে আমার পরিবার আমার চিকিৎসার জন্য একলক্ষ টাকা খরচ করছে। তারা আমার জন্য অনেক কষ্ট করছে। আপনারা সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন, আল্লাহ হাফেজ, বিদায় পৃথিবী। আমি তাকে হাসরের মাঠেও ক্ষমা করবোনা।’

মোশারফ বলেন, শাহেদ ফেইসবুকে আত্মহত্যার ঘোষণা দেওয়া এই পোস্ট দেখতে পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হন পরিবারের লোকজন। তারা তাকে বাড়ীর পাশের পুকুর পাড়ে পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে তাকে দ্রুত উদ্ধার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরিবারের দাবী, তিনি বিষপান করেছেন।

সাহেদের ভাই মোশারফ আরো বলেন, শাহেদ কিছুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন। তাকে কয়েকজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে তার শরীরে তেমন কোন সমস্যা নেই বলে জানিয়ে দেয়। সপ্তাহখানেক আগে মোহসিনিয়া পাড়া গ্রামের আব্বাস উদ্দিন নামের এক ওঝার কাছে নিলে তাকে জাদু-টুনা (কালা বান) করেছে বলে ওই ওঝা দাবী করেন। তখন সাহেদ ধারণা করেন সৌদিতে থাকা তার বন্ধু সোহেল এমন কাজ করেছে। হয়তো আবেগের বসে সে এমন কাজ করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাহেদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে মন্তব্য করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমান। তাকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইত্তেফাক/এমআরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত