রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫
রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫।ছবি: গুগুল ম্যাপ থেকে

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ও বর্ধিত সভায় যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় যুবলীগ নেতা সুমনসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রামগঞ্জ পৌরসভার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দলীয় নেতা-কর্মীরা জানায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি ইছাপুর ইউপি চেয়ারম্যান সহিদ উল্যাহ মারা যান। তার মৃত্যুতে উক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। তাই দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শনিবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বর্ধিত সভার আহ্বান করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। পরে সবার সম্মতিক্রমে নিহত সহিদ উল্যাহর স্ত্রী শাহানাজ আক্তারকে উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

বর্ধিত সভায় যাওয়ার জন্য বিকেলে পৌরসভার কার্যালয়ের ভেতরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু ও পৌর মেয়র আবুল খায়েরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়। একই সময়ে পৌরসভার সামনের সড়কে ভাদুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান ভূইয়ার নেতৃত্বে, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একই অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য প্রস্ততি নেয়। হঠাৎ সফিক মাহমুদ পিন্টুকে দেখে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

তারা জানায়, তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর গত তিন বছর থেকে দলীয় এবং জাতীয় কোন প্রোগ্রামে উপস্থিত তো থাকেনই না এমনকি কোন সহযোগিতা তো করেন না। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা,ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরও পড়ুন: বিরামপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত, চার জেলার সাথে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ

তবে এ ঘটনার জন্য সংসদ সদস্য ড. আনোয়ার হোসেন খাঁনকে দায়ী করে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু ও পৌর মেয়র আবুল খায়ের বলেন, ‘এমপির নির্দেশে এ হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।’

ভাদুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান ভূইয়া, যুবলীগ নেতা সুমন ভূইয়া, ছাত্রলীগ সভাপতি ফায়সাল মাল, অপু মালসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টু ও পৌর মেয়র আবুল খায়ের দলীয় কোন কর্মসূচিতে অংশ নেয় না। তাই তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর একটু ক্ষিপ্ত হয়ে দলীয় এবং জাতীয় প্রোগ্রামে না আসার কারণ জানতে চাইলে পিন্টুর সাথে থাকা কয়েকজন আমাদের লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিক মাহমুদ পিন্টু ও মেয়র আবুল খায়ের পাটোওয়ারী আওয়ামী লীগ ,যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বহিরাগত এবং অনুপ্রবেশকারী উল্লেখ্য করে বলেন এরা কারো ইন্ধনে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া,পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত