সিরাজগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন মসজিদ ও শতাধিক বাড়িঘর

সিরাজগঞ্জে নদীগর্ভে বিলীন মসজিদ ও শতাধিক বাড়িঘর
সদর উপজেলার পাঁচঠাকুরি পূর্বপাড়া গ্রামের জামে মসজিদটি এভাবেই যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ছবি: ইত্তেফাক

সিরাজগঞ্জে গত দু’দিন ধরে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। ফলে সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের সিমলা ও পাঁচঠাকুরি এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙনের তাণ্ডবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পাচঁঠাকুরি এলাকার একটি জামে মসজিদ যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই এলাকার প্রায় শতাধিক বাড়িঘরও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে এই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এই ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এর আশপাশের আরও ৪-৫টি গ্রামের সহস্রাধিক বাড়িঘর।

এ বিষয়ে ছোনগাছা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সিমলা ও পাঁচঠাকুরী স্পার বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার এলাকা গত ১ জুন ধসে যায়। বালির বস্তা ফেলে কোন রকমে বাঁধটি সংস্কার করা হলেও তিন সপ্তাহের মাথায় ওই স্পারের মূল স্যাংকসহ অধিকাংশ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকেই মাঝে মাঝে এই এলাকার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে।’

গত শুক্রবার হঠাৎ করেই শুরু হয় আবারও ভয়াবহ ভাঙন। শনিবার দুপুর পর্যন্ত শতাধিক বাড়িঘর ও পাঁচঠাকুরি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় ভাঙন কবলিত মানুষের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। এ ভাঙন আতঙ্কে অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। যমুনার এই আকস্মিক ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে অসহায় মানুষগুলো আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের খোলা আকাশেরে নিচে। ফলে তাদের চরম মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গফরগাঁওয়ে মসজিদের ইমামকে জবাই করে হত্যা

তিনি আরও বলেন, ‘এমন তীব্র ভাঙন এর আগে কখনো দেখিনি।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সময় মত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এ অবস্থা হতো না।

এ বিষয়ে ছোনগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বলেন, ‘এই রকম নদী ভাঙন এর আগে আমরা কখনো দেখিনি। নদী ভাঙনের কারণে এ এলাকার শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।’

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসায় রাখা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই আমরা ওই এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ গতকাল শুক্রবার থেকে পানি বৃদ্ধি শুরু হওয়ায় ওই এলাকায় তীব্র ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে মসজিদটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে দুপুর থেকেই ওই এলাকায় বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত