অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান ২০২০

কামারখন্দে সময় বাড়ানো হলেও প্রচারণার অভাবে অর্জিত হয়নি লক্ষমাত্রা

কামারখন্দে সময় বাড়ানো হলেও প্রচারণার অভাবে অর্জিত হয়নি লক্ষমাত্রা
চাতালে কাজ করছেন নারী শ্রমিকরা। ছবি-ইত্তেফাক

কামারখন্দে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম হওয়ার পর সময় বাড়ানো হলেও প্রচারণার অভাবে পূরণ হয়নি সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের লক্ষমাত্রা। তবে উপজেলা খাদ্য বিভাগ থেকে মাইকিং করা হয়েছে বলে জানানো হলেও বোরো ধান সংগ্রহের ব্যাপারে জানেন না অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় গেল বোরো মৌসুমে প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা দরে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন ধান ও ৪৯ জন মিলারের কাছ থেকে প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে ১ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বোরো ধান সংগ্রহের সময় বেধে দেয় খাদ্য অধিদপ্তর। সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয় গত ১৪ মে এবং গত ৪ জুন ১১ হাজার ৩৩৯ জন কৃষকের মধ্যে থেকে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষককে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। ধান সংগ্রহের উদ্বোধনের কয়েক মাস অতিক্রম হওয়ার পর আশানুরুপ ধান সংগ্রহ না হওয়ায় বোরো ধান চাষ করা কৃষকদের জন্য সরকারি গুদামে ধান দিতে উন্মুক্ত করে দেয় উপজেলা সংগ্রহ মনিটরিং কমিটি। বোরো ধান সংগ্রহের মেয়াদ ও সকল কৃষকের জন্য সরকারি গুদামে ধান দেয়ার উন্মুক্ত করার বিষয়টি জানেন না অনেক কৃষক। যার ফলে সরকার কর্তৃক বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে লক্ষমাত্রার ২০ ভাগ ধান সংগ্রহ হলেও ৮০ ভাগ ধান কৃষকের ঘরেই থেকে যায়। লক্ষমাত্রা পূরণ না হওয়ায় আবারো ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দেয় খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু প্রচারণার অভাবে তাতেও সুফল মেলেনি। ১৫দিনে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১২ মেট্রিক টন ধান। এদিকে চালেও পূরণ হয়নি লক্ষমাত্রা। ১ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৩৫২ মেট্রিক টন।

উপজেলার ধোপাকান্দি গ্রামের কৃষক মোফাজ্জল হোসেন জানান, আমার নাম প্রথমত লটারিতে ওঠেনি। পরবর্তীতে সকল কৃষক ধান দিতে পারবে ও সময়ও বাড়ানোর ব্যাপারে আমি জানি না। জানলে তো সরকারি গুদামে ধান দিতাম। আমার ঘরে এখনও কয়েকশ মণ ধান রয়েছে।

উপজেলার নান্দিনামধু গ্রামের কৃষক ওহেদুজ্জামান জানান, লটারিতে যাদের নাম এসেছে এদের মধ্যে অনেকেরই এক ডিসিমাল জমিও নেই তাছাড়া এরা বোরো মৌসুমে ধান আবাদ করে নাই। আবার পরে যে ধান দেয়ার বিষয়টি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল সেটাও আমার জানা নেই।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ডালিম কাজী জানান, আমরা অনেক বার উপজেলা জুড়ে মাইকিং করেছি। তাতেও যদি কৃষক না এসে ধান ঘরে রেখে দেয় তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দাম আর খোলা বাজারে ধানের দাম কাছাকাছি হওয়ায় কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিচ্ছেন না। কৃষকের নিজস্ব জমি না থাকলেও কৃষক যদি কারো জমি বর্গা নিয়ে চাষ করলেও কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারবেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত