সিলেটে আড়ৎ ভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও ক্রেতা কম

সিলেটে আড়ৎ ভর্তি পেঁয়াজ থাকলেও ক্রেতা কম
পেঁয়াজের আড়ৎতের ছবি।

সিলেটে পেঁয়াজ বিক্রি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অস্বস্থির শেষ নেই। সোমবার পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা। সিলেটের প্রধান পাইকারী বাজার কালিঘাটে প্রচুর পেঁয়াজ থাকলেও বিক্রি কম ছিল। কালিঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, যদি আবার হঠাৎ দাম কমে যায় তাই দোকানীরা কম পেঁয়াজ নিচ্ছেন। এই অবস্থায় তারা নিজেরাও শঙ্কিত। দম কমে যাওয়ার শঙ্কায় গোদাম ভর্তি পেঁয়াজ নিয়ে আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬২ টাকায়।

আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত কদিন থেকে পেঁয়াজের বাজার অস্থির। কখনো দাম বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। এর ফলে পাইকারি ও খুচরা এ দু‘বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি নিয়ে অস্থিরতা। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রির পরিমাণ খুব কম।

কালিঘাট পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ৫০ ও ৫৫ টাকা। খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৫৫-৫৮ টাকার মধ্যে। আবার নগরীর পাড়া মহল্লার দোকানে এখনো পেঁয়াজ ৬০-৬২ টাকা।

নগরীর অনেকেই বলেন, পেঁয়াজসহ টিসিবি‘র চার পণ্য খোলা বাজারে বেশি করে বিক্রির আহ্বান সাধারণ ভোক্তাদের। তাদের মতে, এ অবস্থায় টিসিবিও দাম কমালে বাজারের ওপর পুরোপুরি প্রভাব পড়বে। তখন পেঁয়াজ মজুদ কিংবা উচ্চ মূল্যে বিক্রির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসবেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতের ওপারে আটকে পড়া পেঁয়াজ রফতানি রবিবার হঠাৎ বন্ধ করায় আবারও পেঁয়াজ বাজার চড়া হতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। কালিঘাটের একাধিক আড়তদার জানান, পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক। তবে, বিক্রি নেই বললেই চলে। গরমে পেঁয়াজ পচে যাওয়ার আশংকা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরাও সাহস করে মাল কিনছেন না। এতো কম পরিমাণে পেঁয়াজ বিক্রি চলতি বছরে এর আগে কোনদিন হয়নি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের দায়িত্বশীলরা রবিবার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এতে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা অধিকারের কার্যক্রম আরো জোরদার করতে চেম্বার নেতাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সিলেটের উপপরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

টিসিবি:

এদিকে, টিসিবি সপ্তাহে সাত দিন প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০, চিনি ৫০, মশুর ডাল ৫০ ও প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছে। পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক না হলে আগামী মার্চ পর্যন্ত খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে টিসিবি পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রতিষ্ঠানের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ ঊর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী মো. ইসমাইল মজুমদার জানান, টিসিবি পণ্য ক্রয়ে ভোক্তাদের প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, চাহিদার সাথে মিল রেখে তাঁরাও পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়িয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত