রামগতিতে দুস্থদের স্বাস্থ্যসেবায় ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন খেয়া’

রামগতিতে দুস্থদের স্বাস্থ্যসেবায় ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন খেয়া’
বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন খেয়া’। ছবি-ইত্তেফাক

রামগতি উপজেলার মেঘনা উপকূলের দুস্থ ও অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন খেয়া’। সোমবার উপজেলার আলেকজান্ডার আসলপাড়া লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদীতে ভাসমান হাসপাতালটি নোঙ্গর করে গরীব-অসহায় মানুষদের বিনামূল্যের এ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করে।

রামগতি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যচর আবদুল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে সকাল ৮টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দিন ব্যাপী চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসময় প্রায় সাড়ে ৭শ রোগীকে বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র ও বিনামূল্যে ঔষধ দেওয়া হয়। এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বালুরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৮শ রোগীকে বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র ও ঔষধ দেওয়া হয়। রামগতি উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এ সেবা কার্যক্রম আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, ‘জীবন খেয়া’ নামে ভাসমান এ হাসপাতালটির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনটি উপকূলীয় এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রামগতি উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় এ সেবা চলছে। এর মাধ্যমে কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় আগামী ২-৩ দিন উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় সেবা প্রদান করা হবে। ভাসমান এ হাসপাতালে মেডিসিন, গাইনী, নাক-কান-গলা ও ডেন্টাল ইউনিটের ৫জন চিকিৎসক, ২জন নার্স ও ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। এ হাসপাতালের রোগীদের বিনামূল্যে ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে ঔষধও দেওয়া হচ্ছে।

পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিক্ষাগ্রাম এলাকার শিরাজ মাঝি, মো. মনির, আবদুল মালেকসহ কয়েকজন চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী বলেন, আমরা উপকূলের অসহায় মানুষ সব সময়ই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। এখানকার বেশীর ভাগ মানুষ আর্থিক অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কেটে যায়। এজন্য টাকার অভাবে শহরের হাসপাতালেও চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন খেয়া’ আমাদের জন্য বড় আশির্বাদ হয়ে এসেছে। তাদের চিকিৎসা পেয়ে এলাকার অসহায় মানুষরা খুব খুশী হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক ফারুক আহম্মেদ বলেন, আর্থিক দৈন্যতাসহ বিভিন্ন কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের দুস্থ ও অসহায় মানুষদের ঠিকমতো শারীরিক চিকিৎসা করা সম্ভব হয়ে উঠে না। অসহায় এসব মানুষদের জীবন-মানের দিকে বিবেচনা করে তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের এ প্রচেষ্টা।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত