প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

গঙ্গাচড়ায় অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করার দাবি

গঙ্গাচড়ায় অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা করার দাবি
গঙ্গাচড়া উপজেলা। ছবি: গুগলম্যাপ থেকে

রংপুরের অনুন্নত, অবহেলিত ও তিস্তা ভাঙ্গন কবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত গঙ্গাচড়া। প্রতি বছর তিস্তার ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে শত শত ঘরবাড়ি-আবাদি জমি। শত শত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে প্রতি বছর। দিন দিন লোকজন অভাবগ্রস্ত হচ্ছেন। শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় পরিবার পরিজন ছেড়ে কাজের সন্ধানে কুমিল্লা, সিলেট, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছুটে চলছে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের এসডিজির প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ অর্থনৈতিক জোনের স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে এমন সুখবরে এলাকার মানুষের মাঝে ব্যাপক আশা জাগায়। এ উদ্দেশ্যে উপজেলা প্রশাসন উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর ইশোর এলাকায় ২৫৪ দশমিক ২৩ একর খাস জমি নির্বাচন করে। অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে হালকা, মাঝারি ও ভারী শিল্প কল-কারখানা তৈরি হবে। যেখানে এ অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হতো। তাছাড়া বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এলাকাবাসীর জোর দাবি, অনুন্নত এলাকা হিসেবে এখানেই যেন অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হয়।

সরকারের আগ্রহে কিছুটা ভাটা পড়লেও এলাকার লোকজন অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন ও বিভিন্ন দফতরে স্মারকলিপি প্রদানের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরও এলাকাবাসী স্মারকলিপি প্রদান করে। এদিকে গঙ্গাচড়া উন্নয়ন পরিষদ নামের একটি সংগঠন অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিজ্ঞ লোকজন বলছেন, চর ইশোর এলাকায় শেখ হাসিনা তিস্তা সংযোগ সড়কের পাশে অর্থনৈতিক জোন প্রতিষ্ঠা হলে নৌপথে তিস্তায় এবং স্থল পথে বুড়িমারী স্থল বন্দরের সাথে সারা বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে।

লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুলাহ আল হাদী বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জোর আবেদন করছি, তিনি যেন গঙ্গাচড়াসহ অবহেলিত অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থে তিস্তার চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেন। তিনি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন বলে জানান।

গঙ্গাচড়া উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওবায়দুলাহ বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোড় আবেদন করছি।

বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রংপুর এ কর্মরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এনামুল কবীর বলেন, গঙ্গাচড়ায় ইউএনও হিসেবে থাকাকালীন সময়ে অনেক কষ্ট করে বিষয়টির জন্য (ইপিজেড) জমি নির্বাচন ও প্রজেক্ট প্রোফাইল করতে হয়েছে। অবহেলিত এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এটি খুব প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/আরএ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত