বোরহানউদ্দিনে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা মিলছে 

বোরহানউদ্দিনে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা মিলছে 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চাল ওজনের কম দেওয়ায় বিষয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে। ছবি : ইত্তেফাক

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বৈদ্যের পুল এলাকার মুসলিম বাজারে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা । ওজনের কম দেওয়া, ট্যাগ অফিসারকে অবগত না করে চাল বিতরণ করায় ডিলার ফয়সাল আহমেদ ও তার সহকারী নুন্নু সিকদার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সুবিধাভোগীরা।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার ভূমি, খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু বকর সিদ্দিক ও ট্যাগ অফিসার কামরুল ইসলামের সমন্বয়ে তদন্তকারী দলটি ঘটনাস্থলে গেলে ভুক্তভোগীরা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে ওজনের কম দেওয়ায় বিষয়ে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণ কার্যক্রমে কাচিয়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার ফয়সাল আহমেদ। ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে ওই ডিলার প্রতি মাসে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল ৫৪৩ জনকে বিতরণ করার কথা।

ট্যাগ অফিসারসহ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর তার উপস্থিতিতে চাল বিতরণের পর ১০০ বস্তা চাল থেকে যায়। ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর ডিলার তাকে অবহিত না করেই চাল বিতরণ করেন।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগীরা জানায়, ডিলার ফয়সাল হলেও বিতরণ কার্যক্রমে মুখ্য ভূমিকায় থাকেন পূর্বের বহিষ্কৃত ডিলার নান্নু সিকদার।

সুবিধাভোগী আ. রশিদের স্ত্রী সাদিয়া বেগম, সিরাজ,লাল মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর, সিরাজুলের ছেলে করিম,মহিবুলের ছেলে মিলন মিয়া, মুনাফের ছেলে বারেক, আবু মিয়া, আবু তাহের, স্থানীয় কাচিয়া ৪নং ওয়ার্ডের নয়া বাড়ির রমজানের ছেলে আবুল কাশেম, কালু হাওলাদার বাড়ির নুরুজ্জামানের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, গফুর খায়ের বাড়ির সিরাজ, সর্দার মফিজুল ইসলাম, ৬ নং ওয়ার্ডের উজ্জল মেম্বারের ছেলে জাহাঙ্গীরসহ একাধিক লোক অভিযোগ করেন, তাদের ২২-২৫ কেজি করে চাল দেন। অথচ ৩০ কেজির দাম রাখেন। তবে মুসলিম বাজার কমিটির সভাপতি মো. শাহজাহান ও সম্পাদক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন

জানতে চাইলে আমিরুল ইসলাম নান্নু সিকদার বলেন, ‘আমার চাউল আমি জনগণকে ১০,১৫,২০ কেজি করে দিবো সেটা আমার একান্ত ব্যাপার।’

চালের ডিলার ফয়সাল আহমেদ বলেন, নান্নু সিকদার আমার সহকারী। তবে অভিযোগের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, রবিবার শুধুমাত্র একজনকে চাল দেওয়া হয়েছে।

কাচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রব কাজী বলেন, ‘সকালে নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। ওখানে অনেক মানুষই ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ করেন নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।’

বোরহানউদ্দিন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুর রহমান জানান, চাল কমে দেওয়ায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিধি অনুসারে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য. ২০১৬ সালের ২৬ নভেম্বর তৎকালীন ডিলার আমিরুল ইসলাম নান্নু সিকদার ৪৪ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রয়ের অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলাসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত