ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে মুছে যাবে রৌমারী’র নাম

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে মুছে যাবে রৌমারী’র নাম
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ বলদমারা নৌকা ঘাট। ছবিঃ ইত্তেফাক

বন্যার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর গত কয়েক দিনের ভারীবর্ষনে ও ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির তীব্র স্রোতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে ক্রমে পাল্টে যাচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা। বছরের পর বছর নদী ভাঙ্গনের ফলে নতুন নতুন গ্রাম থেকে চর হচ্ছে। এতে ঘর-বাড়ী ফসলী জমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গাছপালা বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী গর্ভে। অসহায় মানুষগুলো তাদের বাব দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে পরিণত হচ্ছে ভূমিহীনে।

গত কয়েক দিনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ৫শ পরিবারের ঘরবাড়ি, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কাচা পাকা রাস্তাঘাট নদী গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙ্গনে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন রাস্তার দুপাশে, উচুস্থানে, আশ্রয়ণ প্রকল্পে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ভাঙ্গনের মুখে বিলীন হওয়া গ্রামগুলো হলো রৌমারী উপজেলার ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, ঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, পশ্চিম বাগুয়ারচর, বাইসপাড়া, বলদমারা, পশ্চিম পাখিউড়া ফলুয়ার চর, পালেরচর, ধনারচর, দিগলাপাড়া, তিনতেলী বাগুয়ারচর, বাইটকামারী ধনারচর, দিগলাপাড়া।

এক একটি পরিবার এক থেকে ৭বার নদী ভাঙ্গনে শিকার হয়েছে। এরকম পরিবারের সংখ্যা ১৭’শ অধিক। যেহারে ভাঙ্গন এগিয়ে চলছে তাতে জরুরী কোন পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে উপজেলা সদরে ঢুকে উপজেলা পরিষদ ভবনসহ সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গনের কবল থেকে উপজেলা শহর রক্ষার জন্য কয়েক দফা অপরিকল্পিতভাবে কয়েকশ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করলেও বাস্তবে তেমন কোন কাজে লাগছে না। চলছে দুর্নীতি আর লুটপাট। ফলে নদী ভাঙ্গনে মানুষ দিন দিন নিঃস্ব ও ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। সেক্ষেত্রে রৌমারী উপজেলাটি সম্পূর্ণরূপে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

রৌমারীর পালেরচর গ্রামের ছোরমান মাঝি বলেন, আমাদের এক সময় অনেক সম্পত্তি ছিল বর্তমানে সয়-সম্বল সব নদীতে ভেসে গেছে। রাস্তার ধারে পলিথিন কাগজের ছাপড়া দিয়ে পোলাপান নিয়া কোন মতে বাইচা আছি।

আরো পড়ুনঃ কক্সবাজারে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনের অভিযান

উত্তর ফলুয়ারচর গ্রামের জব্বার, আছমা বেগম, নুরুন্নবী, হাজেরা, কাওসার, আমজাদ, কছিম, রহমত, আক্কাছ, জবেদ, সামছুল, আকবর, রহিম তারা জানান, দিনের পর দিন নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে। তবে প্রতি বছরে নদী ভাঙনে আমাদেরকে আতঙ্কে থাকতে হয়। আমরা শুনেছি বর্তমান সরকার মানবতার মা এ নদের বাম তীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবার জন্য ৪শ ৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকার প্রকল্প টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত কাজটি করলে হয়তো আমরা নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবো।

বন্দবেড় ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও বন্দবেড় ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল কাদের ও সিএসডিকে পরিচালক আবু হানিফ মাষ্টার ও খেদাইমারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও বন্দবেড় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মাষ্টার বলেন, নদী ভাঙ্গনের কবলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসাসহ হাজার হাজার পরিবার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে এবং আরো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রৌমারী উপজেলার প্রায় ১০হাজার পরিবার হুমকির মুখে রয়েছে।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ বলেন, গত ১ বছরে রৌমারী উপজেলার প্রায় ১ হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে নিঃস্ব হয়েছে। এ সব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে। নিঃস্ব এসব পরিবারের পুনর্বাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী নামের উপজেলাটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দুটি উপজেলার নদী ভাঙ্গন রোধে টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত গতিতে কাজ করলে হয়তো রৌমারী উপজেলাটি নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত