তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপরে

তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপরে
তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নতুন করে আবারও লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বৃহস্পতিবার তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনে তিস্তার ভাঙনে মহিষখোচা ইউনিয়নের প্রায় ৪ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আবার নতুন করে রাতে তিস্তার পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেই সাথে সলেডি স্পার-২ বাঁধে যাওয়ার একমাত্র পাকা রাস্তাটি হুমকির মধ্যে রয়েছে। সকাল থেকে এলাকাবাসী পাকা রাস্তাটির উপর বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করে পানির গতি পথ রোধ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের সলেডি স্পার-২, গোবরধন, চন্ডিমারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, আরাজি ছালাপাক,বারঘড়িয়া গ্রামগুলো ঘুরে দেখাগেছে, এসব পরিবারগুলোর বাড়ীতে প্রায় ২-৩ ফুট পানি উঠেছে। পানির কারণে অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। আবার অনেকেই বাড়ীঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে এসব পরিবার গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন। আবার অনেকেই ছুটছেন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে।

বারঘড়িয়া গ্রামের আফজাল হোসেন জানান, রাতে একটু পানি বাড়লেও সকাল হওয়ার আগেই বাড়ীঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এখন তিনি গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন।

এদিকে তিস্তার ভাঙনে গত কয়েকদিনে চৌরাহা গ্রামটি হারিয়ে যেতে বসেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি কমার সাথে সাথে আবারও ভাঙন আতংকে দিন কাটছে তিস্তা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের। এদিকে নদী ভাঙনের স্বীকার ৩০টি পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে ২৬ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক,এম,পি উপজেলার মহিষখোচার তিস্তা নদীর বামতীরে নদী ভাঙ্গন পরিদর্শনে আসছেন বলে এক পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রশাসন।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বলেন, নতুন করে বন্যায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি আরো জানান,এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ শতাধিক বাড়ীঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা প্রশাসনের নিকট জমাও দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, সরেজমিনে গিয়ে এসব পানিবন্দি পরিবারগুলো তালিকা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলো সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত