২৭২ কর্মকর্তার পর এবার কক্সবাজার পুলিশের ১০৭৫ কনস্টেবলের বদলি

২৭২ কর্মকর্তার পর এবার কক্সবাজার পুলিশের ১০৭৫ কনস্টেবলের বদলি
কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়। ছবিঃ সংগৃহীত

পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, ওসি, ইন্সপেক্টর ও এসআই-এএসআইদের বদলির পর এবার কক্সবাজার জেলা পুলিশের ১ হাজার ৭৫ জন কনস্টেবলকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সদর দফতরের এক প্রজ্ঞাপনে জেলা পুলিশের ১ হাজার ৭৫ জন কনস্টেবলকে বদলি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ডিআইজি অফিস সূত্র মতে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনকে প্রথম বদলি করা হয়। এরপর আদেশ আসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৭ সহকারী পুলিশ সুপারের বদলির। এরই মাঝে বদলি করা হয় ৩৪ পরিদর্শকসহ এসআই ও এএসআই ২৬৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে। পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শক ও সহকারি উপ-পরিদর্শকদের বদলির ২৪ ঘন্টা পর এক হাজার ৭৫ কনস্টেবলকে বদলির আদেশ এসেছে শুক্রবার।

আরো পড়ুনঃ করোনা ভাইরাস : আক্রান্তের চেয়ে সুস্থ বেশি

অসমর্থিত একটি সূত্র জানায়, এসপি ও এএসপিদের বদলির পর ক্রমান্বয়ে বাকি কর্মকর্তা এবং কনস্টেবলদের বদলির প্রক্রিয়া মাথায় ছিল হেডকোয়ার্টারের। কিন্তু এত বিতর্কের পরও এসপি মাসুদ হোসেনের 'বর বেশে' নেয়া বিদায় আবারও নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর এ বিষয় নিয়ে নানা জায়গা থেকে নিন্দাও জানানো হচ্ছে। নতুন করে ওঠা বিতর্ক প্রশমিত করতে ৩৪ পরিদর্শক ও ২৬৪ এসআই-এএসআইকে ২৪ সেপ্টেম্বরই তৎক্ষণাৎ বদলির আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু বিতর্ক এড়াতে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করা হয় ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে। এর রেষেই শুক্রবার সমস্ত কনস্টেবলকেও বদলি করে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, শৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের চাকরি বদলীর। নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সারাদেশেই বদলি হন পুলিশ সদস্যরা। কক্সবাজারে কর্মকর্তারাও একই প্রক্রিয়ায় বদলির আদেশ পেয়েছেন। যারা চলে যাচ্ছেন তাদের স্থলে অন্যস্থানের দায়িত্বশীলরা বদলি নিয়ে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সবমিলিয়ে পরিচ্ছন্ন সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো: রাশেদ খান। এ ঘটনার পর পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিতর্ক উঠে এসপি মাসুদ হোসেনেকে নিয়েও। এরপরই জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজাতে একযোগে সব সদস্যকে বদলির সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশের সদর দফতর। যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত