মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন!

মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন!
মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন।প্রতীকী ছবি

মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর এক নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটেছে বাউফল সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঐ দলিল বাতিল চেয়ে পটুয়াখালী আদালতে মামলা করেছেন মৃত নারীর চাচাতো ভাই মো. মামুন হোসেন।

উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপারা গ্রামের বাসিন্দা রেহেনা বেগম (৫৭) দুরারোগ্য ব্যাধিতে ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মারা যান। অথচ তিনি ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর দলিল করে দিয়েছেন বলে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন। রেহেনা বেগমের কোনো সন্তান নেই। তার স্বামীর নাম আলতাফ হোসেন। তিনিও ২০১১ সালে মারা যান। ওয়ারিশ সনদ অনুযায়ী তিন চাচাতো ভাই জীবিত আছেন। ইউনিয়ন পরিষদের দাখিলকৃত মৃত্যুসনদ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দা ও তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেও এ ঘটনার সত্যতা যাছাই করা হয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রেহেনা বেগম নামের ঐ নারী ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর একই উপজেলার ভরিপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে দুটি অছিয়াতনামা দলিলে ৭৪ শতাংশ জমি নিবন্ধন করে দেন। তিনি ঐ নারীর কোনো ওয়ারিশ না। জমির দলিল নিবন্ধনের নিয়মানুযায়ী দলিল দাতাকে সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে সশরীরে উপস্থিত থেকে হলফনামা দেওয়ার পরে জমি নিবন্ধন হয়। এমনকি দলিলেও ছবিযুক্ত স্বাক্ষর থাকতে হয়।

আরও পড়ুন: বাঙ্গালী নদীর ভাঙনের মুখে বিদ্যালয়ের ভবন

সংশ্লিষ্ট মদনপুরা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, রেহেনা বেগম ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর মারা গেছেন যা এলাকার সবাই জানে। সে অনুযায়ী তার স্বজনদের মৃত্যুসনদ দেওয়া হয়েছে। মারা যাওয়ার ২৪ দিন পর কিভাবে তিনি দলিল দিলেন তা আমার বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে গ্রহীতা সাইফুল ইসলাম বলেন, রেহেনা বেগম জীবিত থাকাকালীন তাকে অছিয়াতনামা দলিল দিয়েছেন। তিনি ৩ নভেম্বর মারা যাননি। মারা গেছেন ৫ ডিসেম্বর। এ সংক্রান্ত কাগজ তার কাছে আছে বলেও দাবি করেন। ঐ সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার আবদুর রব বলেন, জমি দাতাকে অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থিত হতে হবে। তাই কোনোভাবেই মৃত ব্যক্তির নামে দলিল নিবন্ধন হওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে কিভাবে দলিল নিববন্ধ করা হলো—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত