মির্জাপুরে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি 

মির্জাপুরে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি 
মির্জাপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম।

দাম বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতি বৃষ্টি, চলমান করোনা, শ্রমিক সংকট, বন্যা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজার দর বেশী হওয়ায় মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ তাদের নিকট থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারেননি বলে খাদ্য অফিস দাবি করছে। গতকাল রবিবার মির্জাপুর খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা, মিল মালিক এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে মির্জাপুরে পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে মহেড়া. জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাতগ্রাম, ভাওড়া, বহুরিয়া, লতিফপুর, গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা ছিল এক হাজার ২৭ মেট্রিক টন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৫৪৪ মেট্রিক টন। চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা ছিল তিন হাজার ৫শ মেট্রিক টন। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১০০শ মেট্রিক টন। মেসার্স সাহা অটো রাইচ মিল, একতা রাইস মিল ও বিসমিল্লাহ এই তিনটি মিল মালিকের সঙ্গে চাল কেনার চুক্তি হলেও মিল মালিকরা চাল দিতে পারেনি। এছাড়া কৃষকরা খাদ্য অফিসে এসে বোরা ধান বিক্রি করতে আসেনি। খাদ্য অধিদপ্তর দফায় দফায় ধান চাল সংগ্রহের জন্য সময় বৃদ্ধি করলেও মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য অফিস ধান চাল সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তর ধান চাল সংগ্রহের জন্য সময় বেঁধে দিয়ে ছিলেন।

এ ব্যাপারে খাদ্য অফিসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মিল মালিকদের মধ্যে মেসার্স সাহা রাইচ মিলের মালিক সুব্রত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অতি বৃষ্টি, চলমান করোনা, শ্রমিক সংকট, বন্যা এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজার মুল্য বেশী হওয়ায় ধান চাল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধরিত দাম চাল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা এবং ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা। কিন্ত বর্তমানে বাজারে চাল প্রতি কেজি ৪৬-৫০ টাকা এবং ধান ৩২-৩৫ টাকা। বাজার মুল্য অনেক বেশী হওয়ায় ধান চাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মির্জাপুর খাদ্য অফিসের খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো. সাব্বির আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে ধান চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতি, বন্যা, শ্রমিক সংকট ও বাজার মূল্য বেশী হওয়ায় কৃষকরা খাদ্য অফিসে এসে ধান চাল দিতে আগ্রহী হচ্ছে না। মিল মালিকদের অনেক চাপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্ত তারা নানা সংকট দেখিয়ে চাল দিতে পারছেন বলে তিনি দাবী করেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত