বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে ৫০হাজার মানুষ

দ্বিতীয় দিনেও রংপুর নগরবাসী পানিবন্দি
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে ৫০হাজার মানুষ
নগরীর নিউ জুম্মপাড়া কিক ইউসেফ রংপুর সিটি কর্পোরেশন স্কুল আশ্রয় কেন্দ্র। ছবিঃ ইত্তেফাক

ধীর গতিতে পানি প্রবাহ নেমে যাওয়ায় দ্বিতীয় দিনেও প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ভাসছে রংপুর মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা সাধারণ মানুষ। পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার পরিবার। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৫০ হাজার হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।রংপুর জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন এর অনুকূলে ২০ মেট্রিক টন চাউল হস্তান্তর করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মুলাটোল, মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা এলাকা, মুন্সিপাড়া, গোমস্তপাড়া, পাকপাড়া গুপ্তপাড়া, খলিফাপাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সর্দারপাড়া, ঈদগাহপাড়া, জুম্মপাড়া, নিউ জুম্মাপাড়া, কেরানী পাড়া, হনুমানতলা, জলকর, নীলকণ্ঠ, কুকরুল, কামারপাড়া, চামড়াপট্টি, করঞ্জাই রোড, হকেরগলি, সেনপাড়াসহ অনেক এলাকায় এখনো হাঁটুপানি ও কোমর পানি রয়েছে। এখনো পানির নিচে রয়েছে এসব এলাকার রাস্তাঘাট, ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে এসব এলাকার অনেক পরিবার আশ-পাশের মুলাটোল বালিকা বিদ্যালয়, কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জুম্মাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামবাগ, কিক ইউসেফ রংপুর সিটি কর্পোরেশন স্কুল, রাধাবল্লাভ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুটিঘর স্কুল, শালবন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ ও উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। আশ্রয় নেওয়া এসব পরিবারকে স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ উদ্যোগে খিচুড়িসহ শুকনো খাবার বিতরণ করছেন।

তবে নগরীর বেশকিছু এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরেছেন স্থানীয়রা। নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র শুকিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন তারা। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তারা।

নগরীর মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা আদম আলী বলেন, পাশের স্কুলে রোববার থেকে পরিবার নিয়ে আছি। বাড়ির বিছানার ওপরেও এখনো পানি। কেউ কোন খোঁজ নিচ্ছে না। অসহায় হয়ে এখানে পড়ে রয়েছি।

এদিকে, এমন জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে নগরীর শ্যামাসুন্দরী খালের ভরাট হওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে আবর্জনায় ভরে গেছে এসব ড্রেনেজ। ফলে পানি নেমে যেতে পারছে না বলে দাবী তাদের।

আরো পড়ুনঃ ধর্ষণ করতে গিয়ে পুরুষাঙ্গ হারালেন

রংপুর মহানগরীতে ভারি বর্ষণে অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে অনেক পানি বন্দি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে জেলা প্রশাসক। তিনি এক বার্তায় জানাগেছে, রংপুর মহানগরীতে গত ২৪ ঘন্টার ভারি বর্ষণে অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে মহানগরীর জনগণ চরম দূর্ভোগের সম্মুখীন হয়। অধিকাংশ রাস্তা প্লাবিত হয় ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করে। অনেক মানুষ বিভিন্ন বিদ্যালয়সহ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করে। রোববার নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানি কবলিত মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও দুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও সাহায্য সামগ্রী বিতরণ করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মো: আসিব আহসান। রংপুরের জেলা প্রশাসন, রংপুর এর পক্ষ থেকে প্রায় ৩শ পরিবারের মাঝে সাহায্য সামগ্রী পৌঁছানো হয়।

এছাড়া জেলা প্রশাসন, রংপুর এর পক্ষ থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন এর অনুকূলে ২০ মেট্রিক টন চাউল হস্তান্তর করা হয়। যা বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পানিবন্দি ও আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জেলা প্রশাসক রংপুর জেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডি থেকে এক বার্তায় গতকাল রোববার রাতে নগর বাসীকে জানান।

নদী-গবেষক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ পরিষ্কার করতে হবে। শ্যামা সুন্দরী খালসহ বিভিন্ন খালগুলোর সঙ্গে নদীর সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। তাতে দ্রুত পানি নেমে যাবে। নাহলে আবারও এমন চিত্র দেখতে হতে পারে।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু জানান, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের এলাকা ২শ’বর্গ কিলোমিটার এলাকা ব্যাপী। বিশাল এই সিটি কর্পোরেশনের অন্তত ৫০ হাজার হতদরিদ্র মানুষ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে।

তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে পানিবন্দি মানুষদের জন্য খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সাংবাদিকদের জানান, নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতরভাবে দিন কাটাচ্ছে। বিশেষ করে হত দরিদ্র লাখো পরিবার অনাহারে আছে। তাদের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গ্রহণ করা চেষ্টা চলছে।

এর আগে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় রংপুরের ইতিহাসে প্রথম এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত