সাভারে নীলা রায় হত্যাকাণ্ড

গ্যাং লিডাররা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ

গ্যাং লিডাররা গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ
সাভারে স্কুল ছাত্রী নীলা রায়। ফাইল ছবি

সাভারে স্কুল ছাত্রী নীলা রায় হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক মিজানকে ৭ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করলেও তার সাথে আর কে জড়িত এ ব্যাপারে এখনো মুখ খুলেনি বখাটে মিজান। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাবি, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব তথ্য তার মুখ থেকে বের করা সম্ভব হবে। এদিকে গ্যাং লিডার শাকিল ও সাকিব সহোদর এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের পিতা পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরুকেও দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ।

গ্যাং লিডার শাকিল ও সাকিব পিতার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাম রাজত্ব কায়েম করেছিল। ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, মাদক, নারী নির্যাতন এমন কোনো ঘটনা নেই যা তাদের বাহিনী করত না। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি নীলা রায় হত্যা মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় সাংসদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান পৌর আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম সিরুকে দল থেকে বহিস্কারের নির্দেশ দেন।

পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, সিরুর দুই পুত্রের জন্য দলের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। পিতার রাজনৈতিক প্রভাবে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে করে যাচ্ছিল। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবী জানান তারা।

এদিকে মূল হত্যাকারী গ্রেফতার হলেও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ভয়ে এলাকাবাসী এখনো ভীতসন্ত্রস্ত। শাকিল-সাকিব ও মিজান গ্যাং এর বিরুদ্ধে এখনো এলাকাবাসী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পায়। এ দলের নেতা শাকিল-সাকিব সহ অন্যান্যরা এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় এ ভীতি জনমনে আরো বেশি দানা বেঁধেছে।

হত্যাকারী মিজান গত শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশের হাতে রাজফুলবাড়িয়ার জনৈক পারভেজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারের সময় তার সাথে আরও দুই সঙ্গী গ্রেফতার হয়েছে মর্মে পুলিশ প্রথমে জানালেও পরবর্তীতে শুধু মিজানকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেফতারকৃত বাকি দুইজন সঙ্গী কে ছিল, কেন তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হলো না- এ নিয়েও ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থল থেকে শুধু মিজানকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

সাভার নাগরিক কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যাতে অন্যরা এ ধরনের অপরাধ করতে ভয় পায়।

সাভার পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আবদুল গনি বলেন, আওয়ামীলীগে কোন সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজের ঠাঁই নেই। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নির্মল কুমার দাস জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা মিজান স্বীকার করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু এখন প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে অভিযুক্ত সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত