পলাশবাড়ীতে করতোয়ার বাঁধ ধসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

পলাশবাড়ীতে করতোয়ার বাঁধ ধসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি
পলাশবাড়ীতে করতোয়ার বাঁধ ধসে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি।ছবি: ইত্তেফাক

গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধায় করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা ও ঘাঘটসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৮১ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে পানিতে ডুবে গেছে গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার কলা, আখ ও রোপা আমনসহ বিভিন্ন শাকসবজি ক্ষেত। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমা ছুই ছুঁই করছে। অসময়ে আকস্মিক এই বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের টোংড়ারদহ এলাকায় করতোয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ৩০মিটার অংশ ধসে গিয়ে আকস্মিকভাবে ১৪টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ও হাজার হাজার বিঘা জমির রোপা আমন ধান এবং অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে বলে জানান পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান।

তবে বাঁধ ধসে যাওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন গাইাবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান।

পলাশবাড়ীর কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম রিন্টু জানান, টোংড়ারদহ এলাকায় বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় তার ইউনিয়নের কিশোরগাড়ী, বড় শিমুলতলা, কাশিয়াবাড়ী, চকবালা, সগুনা ও কেশবপুর গ্রামসহ ১৪টি প্লাবিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ও হোসেনপুর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় লোকজন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বেশ কিছু এলাকায়। পানি উঠছে গোগোবিন্দগঞ্জ-দিনাজপুর ভায়া ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান মায়ের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জহিরুল ইসলাম জানান, করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত, শিবপুর, সাপমারা, নাকাই, কাটাবাড়ি, ফুলবাড়ি, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ ও তালুকানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, বন্যায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর আমন ধান ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৮৫ হেক্টর শাকসবজি এবং ৫ হেক্টর পান বরজ পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঁধ ধসে গিয়ে আকস্মিকভাবে ১৪টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ও ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।

গাইাবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৮১ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে ।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত