গঙ্গাচড়ায় পুলিশ হেফাজতে জোড়া খুনের মামলার আসামির মৃত্যু

গঙ্গাচড়ায় পুলিশ হেফাজতে জোড়া খুনের মামলার আসামির মৃত্যু
এজাহারুল। ছবি: ইত্তেফাক

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, জোড়া খুনের মামলার আসামি এজাহারুলকে পুলিশ গ্রেফতারের পর সে অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গংগাচড়া মডেল থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মৃতের স্বজনরা বলছেন, গ্রেফতারকৃত আসামি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। আগে থেকেই ঐ আসামি নানান রোগে ভুগছিলেন। বর্তমানে জোড়া খুনের মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় থাকায় গত ২০ সেপ্টেম্বর এজাহারুলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে এজাহারুলকে গ্রেফতারের জন্য তার নোহালী ইউনিয়নের পূর্ব কচুয়া গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসার সময় পথিমধ্যে তার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হলে পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য গংগাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।

নিহত এজহারুলের শ্বশুর মোবারক আলী পুলিশকে জানান, তার জামাই আগে থেকে হৃদরোগে ভুগছিলেন এছাড়াও তার মেরুদণ্ড অপারেশন করা ছিল।

আরও পড়ুন: রংপুরে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর সময় জনতার হাতে পুলিশ কর্মকর্তা আটক

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বুধবার দুপুরে গংগাচড়া মডেল থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এজহারুল হৃদরোগ থেকে শুরু করে নানান সমস্যায় ভুগছিলেন। আদালতের আদেশে তাকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে চিকিৎসার জন্য গংগাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য বলেন। রংপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মামলার বাদী জানারুল ও নিহতের ছেলে পারভেজ অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, এজারুলকে সুস্থ অবস্থায় থানা পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন ভাইকে নির্যাতন করার কারণে মারা গেছে।

পুলিশ তাদের অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে জানায়, এজারুল অ্যাজমা সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছিল। তার মৃত্যু হার্ট অ্যাটাকে হয়েছে।

গংগাচড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কিবরিয়া জানান, বাঁশ কাটা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০০৩ সালে আসামি এজাহারুল তার আপন দুই ভাইকে দিন-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করে। এঘটনায় এজাহারুলের ভাই জালানুর বাদী হয়ে গংগাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, মূলত এজারুল ছিল একজন হার্টের রোগী। তবে পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত