‘যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছা না পর্যন্ত দোয়া-দরুদ পড়তে থাকেন’

‘যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছা না পর্যন্ত দোয়া-দরুদ পড়তে থাকেন’
পবা উপজেলার বাগসারা থেকে তানোর পর্যন্ত সড়কটি যাত্রীদের কাছে এখন নরকযন্ত্রণা। ছবি: ইত্তেফাক

রাজশাহী শহর থেকে তানোর হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পবা উপজেলার বাগসারা থেকে তানোর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের কাপেটিং উঠে ছোট-বড়ো হাজারও খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে তানোর থেকে আমনুরা পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার সড়কে বড়ো বড়ো গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছা না পর্যন্ত দোয়া-দরুদ পড়তে থাকনে বলে জানিয়েছেন বাসের চালকরা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় উভয় সড়কে যানবহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতাসহ প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাজশাহী শহর থেকে তানোর উপজেলায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশের প্রধান সড়ক হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ এই সড়কে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করে। সড়কটি এক সময় এলাকার উল্লেখিত সংখ্যক মানুষের কাছে আশির্বাদ হলেও এখন নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। বাগধানী, দুয়ারী রাস্তায় এখন শুধু কোনো রকমে বাস চলাচল করলেও অন্য যানবহন ২০ কিলোমিটার ঘুরে মোহনপুর থানা হয়ে জেলা শহরে প্রবেশ করছে। এতে করে সময়-খরচ দুটোই বেশি লাগছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহী শহর থেকে তানোর হয়ে আমনুরা পর্যন্ত রাস্তার দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। পবা উপজেলার বায়া থেকে বাগসারা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা কিছুটা ভাল হলেও বাগসারা থেকে আমনুরা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়ক শিগগিরই সংস্কার না হলে অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে সকল প্রকার যানবহন চলাচল।

যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায়ই বড়ো গর্তে বাস আটক যাচ্ছে। তখন যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভাঙা রাস্তার কারণে এখন ২০ কিলোমিটার ঘুরে কাশেমবাজার ও মোহনপুর থানা হয়ে রাজশাহী শহরে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটেছে দুর্ঘটনা।

গাড়িচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা থেকে পবা উপজেলার বাগসারা পর্যন্ত সড়কে এতোই বিপজ্জনক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে যে, ৪০ কিলোমিটার সড়কে ৫০ মিনিটের বদলে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। এতো ধীরে চলাচলের পরেও বাস হেলে দুলে উল্টে যাবার উপক্রম হয়। আর মু-ুমালা থেকে আমনুরা যেতে ভয় হয় যে বাস হয়তো সড়কেই আটকে অথবা উল্টে পড়বে। এই দুই এলাকায় যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছার আগ পর্যন্ত বাসের মধ্যে দোয়া-দরুদ পড়তে থাকেন।

এ ব্যাপারে স্থানীন সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) তানোর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন অবশ্য বলেন, তানোর থেকে আমনুরার ধামধুম পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক শুধু সংস্কারই নয়, সড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে সম্প্রাসরণও করা হবে। ইতিমধ্যে এই সড়ক সংষ্কারের জন্য টেন্ডার আহব্বান করা হয়েছে। এছাড়াও তানোর উপজেলা থেকে রাজশাহী পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের কাজ প্রক্রিধীন রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত