রংপুরে অধ্যয়নরত ভারতীয়দের এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত

রংপুরে অধ্যয়নরত ভারতীয়দের এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের বেশ কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন রংপুরে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা। ভিসা জটিলতায় তাদের পরীক্ষায় বসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে এসবের জন্য স্ব স্ব কলেজ প্রধানকে দুষছে রাবি। ইতিমধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ পেছালেও বহাল রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত তারিখ। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ভিসাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পরীক্ষার তারিখ পেছানোর আবেদন জানিয়েছেন।

করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হলে এসব বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিজ দেশে চলে যান। এর মধ্যে এমবিবিএস ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুয়াযী চলতি সালের মে মাসে এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে পরীক্ষাগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়। পরে তারিখ ঘোষণা করা হয়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২৮ অক্টোবর থেকে এবং চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তারিখ পিছিয়ে ২৮ অক্টোবর নির্ধারণ করলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব নির্ধারিত ১৭ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত এখবর লেখাপর্যন্ত বহাল রেখেছে।

নেপাল ও ভুটানসহ অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে ফিরে এলেও ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত আসতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলো সূত্রে জানা গেছে। গতকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদান শুরু হলেও স্বল্প সময়ে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

রংপুরে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অসংখ্য বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এতে দেশের সুনাম যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। বুধবার থেকে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে। ভিসা প্রসেসিং করে দেশে আসতে ৪-৫ দিন সময় লাগগে। নির্ধারিত ১৭ অক্টোবরে পরীক্ষা হলে তারা অংশ নিতে পারবে না। বিদেশি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা না করে কর্তৃপক্ষ একক সিদ্ধান্ত নিলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে শিক্ষার্থীরা। তাই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্য দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান এই কর্মকর্তা।

এব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. নওশাদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একমাস আগে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের আনতে না পারা সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের ব্যর্থতা এবং শিক্ষার্থীরা কবে নাগাদ আসতে পারবে সে বিষয়ে তারা (অধ্যক্ষ) এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতেও পারছে না। যদি তারা বলেন যে, আগামী চারদিনের মধ্যে সব শিক্ষার্থী এসে পড়বে তাহলে পরীক্ষা সাতদিন পেছাতে কোনো আপত্তি নেই।

ইত্তেফাক/এসি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত