মামলায় ধর্ষণের উল্লেখিত তারিখে যুবক ছিল দেশের বাইরে

মামলায় ধর্ষণের উল্লেখিত তারিখে যুবক ছিল দেশের বাইরে
রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন। ছবি-ইত্তেফাক

রাজশাহীতে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় দুই মাস ধরে জেলে আছে মনিরুজ্জামান মান্না (২৯)। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিয়ে না করায় এক মেয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গত ৬ আগস্ট তার থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে মান্নার পরিবারের দাবি, মামলায় ধর্ষণের যে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেছে মান্নার পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে মান্নার মা হাসিবা পারভীন বলেন, ২০১৫ সাল থেকে মেয়েটির সঙ্গে তার ছেলের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক ছিল। এ সুযোগে মেয়েটি তার ছেলের কাছ থেকে দামি দামি উপহারসহ মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। সে মান্নাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু মান্না বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় সে নানাভাবে হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল মান্না নগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

কিন্তুপ্রায় তিন বছর পর গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় হঠাৎ করে ওই তরুণী ৫টি মোটরসাইকেলে ১২ জন অপরিচিত যুবকদের সাথে নিয়ে তার বাসায় যান। এ সময় মান্নার সাথে মেয়েটির কথা কাটাকাটি হয়। বাসা থেকে ওই তরুণী তার বন্ধুদের নিয়ে চলে যাওয়ার সময় মান্নাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন।

এরপরের দিন মান্না ও তার বোন শিলার নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই মান্নাকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে মামলায় ধর্ষণের তারিখ হিসেবে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই সময় মান্না চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলেও দাবি পরিবারের।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত ভার গ্রহণ করে। তদন্ত শেষে পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। সেখানেও মামলার বাদীর ঘটনার তারিখ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওই তরুণী দাবি করেন, মান্না বিয়ের প্রলোভন দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেছে। তাই তিনি মামলা করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা ধর্ষণের সময় আসামি বিদেশে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। মেডিকেল রিপোর্টের বিষয়ে বলেছেন, রিপোর্ট দেয়া হয়েছে চারদিন পর। সে কারণে এমন রিপোর্ট হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত