কিশোরীকে আটক রেখে দেড় মাস ধর্ষণ : ৩ সহযোগীসহ ধর্ষক আটক

কিশোরীকে আটক রেখে দেড় মাস ধর্ষণ : ৩ সহযোগীসহ ধর্ষক আটক
গোলাকার চিহ্নিত ধর্ষক শাহাব উদ্দীন [ছবি: ইত্তেফাক]

কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে কক্সবাজারের সদর উপজেলার পিএমখালী ও বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষক ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর একটি দল। আটককৃতদের কক্সবাজার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার কিশোরীকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মুনির উল গীয়াস।

আটককৃতরা হলো, কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া চেয়ারম্যানপাড়ার আব্দুল গনির ছেলে ধর্ষক শাহাব উদ্দীন, সহযোগী পেকুয়া উজানটিয়ার আরমান হোসেন, খরুস্কুল হাটখোলাপাড়ার নুরুল আলম, পেঁচারঘোনার লোকমান।

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর জুমছডির টমটম চালকের কিশোরী কন্যাকে দেড় মাস যাবৎ আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর ৯৯৯ কল করে সহায়তা চান ভিকটিমদের মা। ৩৫ হাজার টাকা ধার দেওয়ার পর যথাসময়ে ফেরত না পাওয়ায় টাকার পরিবর্তে টমটম চালকের মেয়েকে জোর পূর্বক আটকে রেখে ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেন অসহায় কিশোরীর মা। কক্সবাজার মডেল থানার পুলিশ সেদিন দুপুরে কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হয়। পরে র‌্যাব-৭ ভিকটিম কে উদ্ধারে মাঠে নামে।

ভিকটিমের মা জানান, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী পশ্চিম জুমছড়ির টমটম চালক মাহবুব আলমের সাথে খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়ার আব্দুল গনির ছেলে শাহাবুদ্দিনের টমটম চালাতে গিয়ে সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে শাহাবুদ্দিন মাহবুব আলমের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করত। ইত্যবসরে মাহবুব আলমের টাকার প্রয়োজন পড়ায় শাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ধার নেয়। টানাপোড়নের সংসারের মাহবুব আলম ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। এই সুযোগে শাহাবুদ্দিন মাহবুবের কিশোরী কন্যাকে জোরপূর্বক লোকজন নিয়ে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। টাকা ফেরত না দিলে মেয়েকে আর ফেরত দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় শাহাবুদ্দিন।

আরো পড়ুন: সরিষাবাড়ীতে প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণ, বখাটে আটক

মাহবুব আলমের স্ত্রী শামসুন্নাহার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য স্থানীয় মেম্বার ও খরুলিয়ার মেম্বার আবদুর রশীদের কাছে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করে। তাতেও মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য সরকারি সহায়তা নম্বর ৯৯৯ ফোন করে মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানায় মা শামসুন্নাহার। বিষয়টি কক্সবাজার মডেল থানাকে অবগত করা হলে কক্সবাজার মডেল থানা এস আই মনসুরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ খরুলিয়া চেয়ারম্যান পাড়ায় টমটম চালক শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য ১১ অক্টোবর অভিযান চালায়। অভিযানের খবর আগে থেকে জেনে যাওয়ায় শাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন উক্ত মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে চট্টগ্রামের র‌্যাব ৭ এর একটি দল গত ১৫ অক্টোবর অভিযান চালিয়ে ধর্ষক ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে গতকাল মধ্যরাতে সদর থানায় হস্তান্তর করেন। সদর থানার ওসি জানান আটককৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে সোপর্দ করার পর জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ভিকটিমের মা শামসুন্নাহার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত