এমপির পোস্টারে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ লিখা, লংমার্চে হামলা

এমপির পোস্টারে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ লিখা, লংমার্চে হামলা
ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চ-এ লাঠি নিয়ে হামলা। ছবি: ফোকাস বাংলা

ঢাকা থেকে যাওয়া ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চ হামলার শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে ফেনী শহরের জজ কোর্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হামলার জন্য স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন লংমার্চকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার ফেনী শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ চলছিল। পাশে দোয়েল চত্বরে ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর ছবি সম্বলিত বড় পোস্টারে কে বা কারা লাল রঙ দিয়ে ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ কথাটি লিখে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, এসময় দায়িত্বরত পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত কয়েকজন লংমার্চকারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এতে সেখানে উত্তেজনা ও হট্টগোল শুরু হলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শ’খানেক কর্মী রাস্তায় এসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। পরে প্রতিবাদের মুখে সরে যায় পুলিশ।

খবর পেয়ে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আতোয়ার রহমান ও মডেল থানার ওসি আলমগীর হোসেন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

লংমার্চকারীদের মিছিল। ছবি: ফোকাস বাংলা

লংমার্চকর্মীরা জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে তারা শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশ করে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে পাগলা মিয়া সড়কে অপেক্ষমাণ তাদের বাসের দিকে যাচ্ছিলেন। এরপর জজ কোর্ট এলাকায়ও তারা সমাবেশ করেন। এসময় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা তাদের উপর হামলা করে মারধর শুরু করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই সময় লংমার্চের বহরে থাকে তিনটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়

আহতদের মধ্যে উদীচী, যুব ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্টের কর্মীরাও রয়েছেন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহতদের মধ্যে জাওয়াদুল ইসলাম, আসমা, ইমা, রাফিন, মাহমুদা দীপা, স্বর্ণা, তাহমিদা, মাহির শাহরিয়ার রেজা, জহর লাল রায়ের নাম জানা গেছে।

ছাত্র ফেডারেশন ফেনী শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ সূর্য বলেন, সমাবেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে বহিরাগত কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।

এদিকে ফেনী জেলা ছাত্রলীগ বিকাল ৩টার দিকে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে নিজাম হাজারী এমপির ফেস্টুনে লংমার্চকারীদের লিখা ‘ধর্ষকদের পাহারাদার’ এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় সংগঠনটি।

লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সালাহ উদ্দিন ফিরোজ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হায়দারসহ নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন হামলার কথা স্বীকার করলেও হামলায় সর্বোচ্চ চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচ

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত